বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট
১২৩ Views

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পার্বতীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলার মানুষ মারাত্মক বিদ্যুৎ–বিভ্রাট ও লো-ভোল্টেজের দুর্ভোগে পড়েছেন।

গত রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গত ১৬ অক্টোবর সকালে গর্ভনর ভালভ স্টিম সেন্সরের ত্রুটির কারণে ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিটের চারটি টারবাইন নষ্ট হয়। অন্যদিকে ১২৫ মেগাওয়াটের দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে সংস্কারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “ত্রুটিগ্রস্ত দুটি ইউনিটের মেরামতকাজ চলছে। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু করা যাবে।”

জাতীয় গ্রিড থেকেও উত্তরাঞ্চলে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় দিনাজপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকছেন, আর ৩২–৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভ্যাপসা গরমে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

দিনাজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি–২ এর পার্বতীপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জহুরুল হক বলেন, “আমাদের জোনে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। এতে প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে আছেন। ভোল্টেজও স্থিতিশীল রাখা যাচ্ছে না।”

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রতিদিন ১৪০–১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো, যার জন্য প্রয়োজন হতো ১,৬০০ টন কয়লা। প্রথম ইউনিট থেকে ৪০–৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনে লাগত ৭০০–৮০০ টন কয়লা। দ্বিতীয় ইউনিট চালু থাকাকালে ৬০–৬৫ মেগাওয়াট উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হতো ৮০০–৯০০ টন কয়লা।

তিনটি ইউনিট চালু রাখতে দৈনিক প্রায় ৫,২০০ টন কয়লা প্রয়োজন হয়, যদিও একসঙ্গে তিনটি ইউনিট কখনো সচল রাখতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডে মজুত রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টন কয়লা।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পার্বতীপুর কার্যালয় জানায়, শহরে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ৬–৭ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩ মেগাওয়াট। এতে নেসকোর প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকও নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন।

প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট চালু হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

Share This

COMMENTS