সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত: ১৪ বছর আগের রায় বাতিল করল আপিল বিভাগ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত: ১৪ বছর আগের রায় বাতিল করল আপিল বিভাগ
১০৩ Views

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া ১৪ বছর আগের রায় অবশেষে বাতিল করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিল ও পুনর্বিবেচনার আবেদন সর্বসম্মতভাবে মঞ্জুর করে আজ বৃহস্পতিবার এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।

রায়ে আদালত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ২০১১ সালের আপিল বিভাগের সেই রায় একাধিক মৌলিক ত্রুটিতে ভরপুর ছিল এবং তা সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে রায়টি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হলো।

রায়ের পর সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছদ ২(ক)-এ অন্তর্ভুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারসম্পর্কিত বিধান—যা ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত হয়েছিল—পুনরায় কার্যকর ও পুনরুজ্জীবিত হলো। আদালত বলেছেন, এ বিধানবলি ভবিষ্যতের প্রযোজ্যতার ভিত্তিতেই কার্যকর থাকবে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে মামলা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে, আইনজীবী এম সলিমউল্লাহ ও অন্যান্যদের রিটের মাধ্যমে। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দিয়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল থাকে।

পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল করা হলে ২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে (৪–৩) সংশোধনীটি বাতিল করে দেন। সেই রায়ের পর আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়।

দেশে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার অধীনে। এর আগে ১৯৯১ সালে নির্বাচন হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতায় গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। তিনি প্রধান বিচারপতির পদ ছাড়তে বাধ্য হয়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

Share This