থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি নিষিদ্ধ; নিরাপত্তা জোরদার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা


ষ্টাফ রিপোর্টার\ বড়োদিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে কোনো ধরনের আতশবাজি ফোটানো যাবে না এবং রাস্তা অবরোধ বা বøক করে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না- এমন নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, উৎসবকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গত সোমবার (২২শে ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৮তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান উপদেষ্টা। সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’-এর অগ্রগতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন প্রস্তুতি, বড়োদিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর করণীয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
উপদেষ্টা জানান, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলমান অভিযান আরও জোরদার করতে গত ১৩ই ডিসেম্বর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ শুরু করা হয়। এই অভিযানে ২০শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৩৭ রাউন্ড গুলি, ১৩৭ রাউন্ড কার্তুজ, ৬২টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি ও বোমা তৈরির উপকরণ। মামলা ও ওয়ারেন্টভিত্তিক গ্রেপ্তারসহ মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫০৫ জনে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে যৌথবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে হত্যার মূল হোতা ফয়সাল করিমের স্ত্রী, মা-বাবা, শ্যালকসহ সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন। এছাড়া, হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, দু’টি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের মোটিভ সংক্রান্ত তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বড়োদিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে তিনি জানান, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়োদিন যেন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে জন্য প্রতিটি গির্জায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গুলশান, বনানীসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। এ সময়ে ট্রাফিক চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং নগরজুড়ে টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।
সবশেষে উপদেষ্টা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চেকপোস্ট বাড়ানো এবং সিসিটিভি ও কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে- যাতে উৎসবকাল ও নির্বাচনকালীন সময় নির্বিঘœ থাকে।
