ইরান যুদ্ধ থামাতে চাপে ট্রাম্প, মিত্রদের মধ্যে বাড়ছে শঙ্কা

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থামাতে নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমবর্ধমান চাপে পড়েছেন। একদিকে দেশের ভেতরে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা। এই দুই বিপরীতমুখী চাপের মাঝে কার্যত কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছেন ট্রাম্প।

প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলার পরও ইরান সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। বরং দেশটি হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে এবং নিজেদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। এ কারণে ট্রাম্প তাঁর নির্ধারিত চীন সফরও পিছিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে, যেখানে আগের শর্তগুলোর প্রতিফলন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কৌশল ভিন্ন। তারা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মাধ্যমে নিজেদের টিকিয়ে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ক্লান্ত করে তোলার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত রাখাই তাদের লক্ষ্য।

সংঘাত শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। আগে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হরমুজ প্রণালি এখন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্র দেশগুলো, যারা শুরু থেকেই এই যুদ্ধ নিয়ে সংশয়ে ছিল।

এদিকে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধসহ কঠোর শর্ত দিচ্ছে, সেখানে ইরান ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা দাবি করছে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এই যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকান নাগরিকই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে ভুল মনে করছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল নিয়ে অসন্তুষ্ট।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে প্রশাসনের মিশ্র বার্তা। একদিকে আলোচনা চালানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিতও দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। তবে স্পষ্ট যে, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *