যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল, ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতি ও ইরানসংক্রান্ত সামরিক অবস্থানের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (গতকাল) বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের হাজারো স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন, যা ‘নো কিংস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

এদিন দেশজুড়ে ৩ হাজার ২০০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। আগের দুই দফার তুলনায় এবার অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বেশি—লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটনে বড় মিছিল দেখা গেছে, যদিও অধিকাংশ কর্মসূচি হয়েছে বড় শহরের বাইরেও।

আরও পড়ুন:  ইরান যুদ্ধ থামাতে চাপে ট্রাম্প, মিত্রদের মধ্যে বাড়ছে শঙ্কা

আয়োজকদের দাবি, গত বছরের জুনে প্রথম কর্মসূচির তুলনায় ছোট শহরগুলোতে অংশগ্রহণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। মিনেসোটার সেন্ট পলসহ বিভিন্ন স্থানে বড় জমায়েত হয়, যেখানে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালৎস বলেন, এই আন্দোলনই প্রমাণ করে জনগণ মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যা কিছু করা সম্ভব, তা করতেই আমরা প্রস্তুত।”

সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই স্বৈরাচার বা ধনিকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া হবে না—এ দেশ জনগণেরই থাকবে।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতির কথা জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোও অংশ নেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের মতো করে আগে কোনো প্রেসিডেন্ট দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে এমন ঝুঁকির মুখে ফেলেননি।

ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মল থেকে শুরু করে মেরিল্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা গণতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দেন। অনেকেই হুইলচেয়ারে বসেও প্রতিবাদে অংশ নেন, হাতে ছিল “স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ুন” এবং “গণতন্ত্র চাই” লেখা প্ল্যাকার্ড।

তবে কিছু স্থানে উত্তেজনাও দেখা যায়। ডালাসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বিরোধী গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়, ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, একটি ফেডারেল ভবন ঘিরে রাখার সময় সহিংসতার অভিযোগে অন্তত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘নো কিংস’ আন্দোলন এখন কেবল একটি প্রতিবাদ নয়, বরং ট্রাম্পবিরোধী জনমতের একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠছে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *