
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পেশাদার জীবনে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে উচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেম, দৃঢ় মনোবল ও টিম স্পিরিট থাকলে খেলোয়াড়দের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়া আর শুধু বিনোদন নয়, বরং এটি একটি স্বীকৃত পেশা—বাংলাদেশও সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে, যাতে তারা নির্ভয়ে নিজের পছন্দের খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন।
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের জন্য বেতন কাঠামো ও ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি আর্চারি, বক্সিং, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, কাবাডি, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলায় সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো হবে, যাতে এসব খেলা থেকেও আন্তর্জাতিক সাফল্য আসে।
খেলাধুলাকে শিক্ষার অংশ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রতিটি ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা করে ভাতা প্রদান করেন এবং ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ তুলে দেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।