
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে দুটি বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। রোববার সংসদে কণ্ঠভোটে বিল দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপ পেল।
সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অধিকাংশ অনুমোদনের সুপারিশ করে। এর ধারাবাহিকতায় সংসদে বিল পাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাস হওয়া দুটি বিলের ক্ষেত্রে কমিটি অধ্যাদেশগুলো হুবহু অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করেন। কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিল দুটি নিয়ে আলোচনা ছাড়াই দ্রুত কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগে প্রায় আট মিনিট।
পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, বিসিএসসহ সব ক্যাডার ও ক্যাডারবহির্ভূত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ বছর। একইসঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই বয়সসীমা প্রযোজ্য হবে।
বিলের ব্যাখ্যায় বলা হয়, চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন নিয়োগবিধিতে ভিন্ন ভিন্ন বয়সসীমা থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল, যা নতুন আইনের মাধ্যমে নিরসন করা হবে।
এ ছাড়া ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল-২০২৬’-এর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কিছু বিধানও অনুমোদিত হয়েছে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করা, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া বা কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়াকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এ ধরনের অসদাচরণের জন্য শাস্তি হিসেবে পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরিচ্যুত করার বিধান রাখা হয়েছে।
সংসদে বিল উত্থাপন নিয়ে বিরোধী দল আলোচনা করার দাবি জানালেও আইনমন্ত্রী জানান, প্রতিটি অধ্যাদেশ পর্যায়ক্রমে সংসদে তোলা হবে এবং আলোচনার সুযোগ থাকবে। তবে এ দুটি বিল বিশেষ কমিটির সর্বসম্মত সুপারিশে পাস করা হয়েছে।