
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নতুন বেতনকাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার পথে রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে তিন ধাপের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো একবারে নয়, বরং তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে বাড়তি মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে দেওয়া হবে। এরপর তৃতীয় বছরে যোগ হবে বিভিন্ন ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা।
সাম্প্রতিক বাজেট-সংশ্লিষ্ট বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রাজস্ব আদায়ের অবস্থা এবং বাজেটের চাপ বিবেচনায় রেখে সরকার বাস্তবসম্মত উপায়ে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে চায়।
উদাহরণ হিসেবে, বর্তমানে কোনো কর্মকর্তা যদি ৫০ হাজার টাকা মূল বেতন পান এবং নতুন কাঠামোয় তা ১ লাখ টাকা নির্ধারণ হয়, তাহলে প্রথম ধাপে তিনি সরাসরি ১ লাখ টাকা না পেয়ে ৭৫ হাজার টাকা পেতে পারেন। পরবর্তী ধাপে ধাপে পুরো বেতন ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা যুক্ত হবে।
নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পেনশনভোগীদের জন্যও সুখবর রয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্তরের পেনশনভোগীদের জন্য শতভাগ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধি এবং বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে, ২১ মে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের পর নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।