
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। যুদ্ধ বন্ধে একাধিকবার সময়সীমা দেওয়ার পর এবার মঙ্গলবারের ডেডলাইনকে ‘চূড়ান্ত’ বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।
সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া পাল্টা প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা সংকট নিরসনে যথেষ্ট নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্ধারিত সময়সীমা কোনোভাবেই পরিবর্তন করা হবে না এবং ইরানকে সেই সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তেহরান কী করতে হবে তা ভালোভাবেই জানে। শর্ত পূরণ করলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে তার মতে, ইরান কিছুটা সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় থাকলেও এখনও তা পর্যাপ্ত নয়।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, এই লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া। এ অবস্থানের বিরোধিতা করা ব্যক্তিদেরও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি।
এছাড়া ইরানের তেলসম্পদ নিয়েও নিজের মন্তব্য তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিন জনগণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে সরে আসতে হচ্ছে, নইলে তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ছিল ইরানের তেলক্ষেত্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তার পরিণতি নিয়েও সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এখনই সরে যেতে পারে, তবে ইরানের আগের অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তাই যুদ্ধ শেষ করার পাশাপাশি তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প চূড়ান্ত সময়সীমা উল্লেখ করেন। তার মতে, ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—যা বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা।
এর আগে একাধিক দফায় আলটিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প—২১ মার্চ ৪৮ ঘণ্টার হুমকি, ২৩ মার্চ পাঁচ দিনের সময় বৃদ্ধি, ২৭ মার্চ আরও ১০ দিনের ছাড়, ৪ এপ্রিল ৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত সতর্কতা এবং ৫ এপ্রিল আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সবশেষে ট্রাম্প জানান, নির্ধারিত সময়সীমার পর আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইরান দাবি না মানলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে, আর সবার নজর এখন ট্রাম্পের দেওয়া এই চূড়ান্ত ডেডলাইনের দিকে।