বিরামপুরে আবাসিক হোটেলে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব: প্রেমিক-প্রেমিকার ওপর হামলা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই

দিনাজপুরের বিরামপুরে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থানরত এক প্রেমিক-প্রেমিকার ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থানকালে ৬–৭ জন কিশোর জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে ওই যুগলকে ঘিরে ধরে। পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে প্রেমিকা  সাবরিনা খাতুনের কাছ থেকে সোনার কানের দুল ও গলার চেইন ছিনিয়ে নেয় তারা।

এ সময় কিশোর গ্যাংটি  ওই যুগলের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভুক্তভোগীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

বিরামপুর থানার পুলিশ জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে ছিল সাহেদুজ্জামান শিফাত। ছিনিয়ে নেওয়া স্বর্ণালংকার বিরামপুর পুরাতন বাজারের একটি দোকানে বিক্রি করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার পর প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ‘সানভিউ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের ওই আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আনায়ার হোসেনকে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৯১ ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন   উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরিন।  তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ দণ্ড দেন।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, কিশোর গ্যাংটি অবৈধভাবে হোটেলে প্রবেশ করে মব সৃষ্টি করে এবং ঘটনাটি ঘটায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবরিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আজ বুধবার প্রেমিক ওমর ফারুকসহ  কিশোর গ্যাংদের  গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৫–৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন — ১। মো. ওমর ফারুক, ২। মো. শাহাদাত হোসেন, ৩। মো. রহমতুল্লাহ (বাবু), ৪। মো. সজীব আরাফাত, ৫। মো. শহিদ, ৬। মো. সাহেদুজ্জামান শিফাত এবং ৭। মো. রাহাদ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওমর ফারুক ওই তরুণীকে হোটেলে নিয়ে আসেন। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, কাবিননামা প্রদর্শনের ভিত্তিতেই কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *