
মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থির। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল, যা শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। এতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পাকিস্তান।

যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে—তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। তবে এই স্বস্তির মধ্যেই লেবাননে নতুন করে সহিংসতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও বুধবার রাত পর্যন্ত লেবাননে শতাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী, যাতে কয়েক শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
এ অবস্থায় সতর্ক সংকেত দিয়েছে ইরানও। লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে যুদ্ধবিরতি থেকে সরে গিয়ে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, লেবাননকে এই চুক্তির বাইরে রাখার কারণে তা দুর্বল হয়ে পড়ছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানে হামলা বন্ধ করলেও লেবাননে তাদের অভিযান চলবে।
এদিকে জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই সপ্তাহই নির্ধারণ করবে যুদ্ধবিরতি টেকসই হবে, নাকি এটি কেবল বড় সংঘাতের আগে সাময়িক বিরতি।