
জাতীয় পেনশন স্কিম সম্প্রসারণে নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে অন্তত একজনকে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমের’ আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
স্কিমকে আরও জনপ্রিয় ও কার্যকর করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর সম্ভাবনা, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান স্কিমের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। সেখানে জানানো হয়, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। পেনশন তহবিলে জমা হয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং মুনাফাসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
তবে তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম এক বছরে প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার মানুষ স্কিমে যুক্ত হলেও পরবর্তী ২০ মাসে নতুন গ্রাহক বেড়েছে মাত্র প্রায় ৫ হাজার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্কিমটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অংশগ্রহণে ধীরগতি দেখা দেয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা হয়। বিশেষ বিবেচনায় ৫০ বছরের বেশি বয়সীরাও এতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।