লালমাইয়ে নির্মাণ কাজ চলাকালেই কার্পেটিং উঠে গেছে রাস্তার

            মাসুদ রানা\ কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়গনর থেকে নাগরিপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ৮শ’ মিটার সড়কের কাজ শেষ না করতেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে! এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাজী মিনার আলম নামক ফেইসবুক আইডি থেকে একটি ৫ মিনিট ৬ সেকেন্টের লাইভ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়।

            উপজেলা প্রকৌশল অফিসের তথ্যমতে, রাস্তাটি ২৫ মিলি কার্পেটিং করার কথা থাকলেও কোথাও তা করা হয়নি। কার্পেটিংয়ের পূর্বে সড়কটি পিজ দিয়ে ভিজিয়ে কার্পেটিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়নি। ফলে সড়কের বেশিরভাগ অংশ থেকেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে হতাশা বিরাজ করছে।

            বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা এরশাদ বলেন, সড়কে যথেষ্ট অনিয়ম রয়েছে। এভাবে কাজটি করা হলে আগামী ৩ মাসও চলা যাবে না। এ সময় তিনি বলেন, সড়কের মাঝখানে আমি গর্ত করে দেখেছি কোথাও ২৫ মিলি পিসঢালাই নেই। তাছাড়া, বিষয়টি নিয়ে এলজিইডি লোকজন এসেছে, দেখেছে এবং ইউএনও স্যার এসে দেখে গেছে।

            যুবদল নেতা গাজী মিনার আলম বলেন, আমাদের পকেটের টাকা দিয়ে উন্নয়ন হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এমন দূর্নীতির বিরুদ্ধে যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমরা মানববন্ধনে যাবো।

            গাজী এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যাবৎ লালমাইয়ের বিভিন্ন স্থানে কাজ করে আসছে। অতীতেও তাদের দূর্নীতি নিয়ে কথা উঠেছে। তবে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়াতে কাউকে তোয়াক্কা না করেই তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

            গাজী এন্টারপ্রাইজের মালিক পরিচয়দানকারী গাজী মনির বলেন, সরকার আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছে আমি ঠিক সেভাবেই কাজ করছি। কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি এলজিইডি অফিসে যান। বিস্তারিত ওইখান থেকে জেনে নিন বলে ফোন কল কেটে দেন।

            এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি নিয়ে ভাইরালকৃত ভিডিওটি দেখে শনিবার সকালেই জেলা এলজিইডি অফিস থেকে লোকজন এসেছে। আমিও বিষয়টি দেখেছি কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কিছু শর্ত দিয়েছি যদি এগুলো মেনে সে কাজ করতে পারে তাহলে করবে, না হয় কাজ বন্ধ থাকবে।

            এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, স্থানীয়রা আমাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে ঘটনাস্থলে যাই এবং কাজ পরিদর্শন করি। এলজিইডির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রকৌশল দিক থেকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছি এবং আগামীদিনে রাস্তার কাজ ভালভাবে করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। -ইনকিলাবের সৌজন্যে

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *