
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ তৈরি করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তারা যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্য আইনে নতুন অযোগ্যতার বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের আইন-বিধি সংস্কার কমিটি স্থানীয় সরকারের চার স্তরের আইন সংশোধনের জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। বিদ্যমান ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা আইনে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’র সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ বা সশস্ত্র বাহিনীর কথা উল্লেখ থাকলেও উপজেলা ও সিটি করপোরেশন আইনে তা নেই। কমিশন সব আইনের সংজ্ঞায় অভিন্নতা এনে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। এতে করে নির্বাচনে প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা কোনো বিশেষ আদেশ ছাড়াই সেনাসদস্যদের মাঠে নামানো এবং পুলিশের মতো পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের মতো আইনি ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আইন-বিধি সংস্কার কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, আইনে সেনাসদস্যদের অন্তর্ভূক্তি থাকলে পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সুযোগ থাকলেও প্রতি নির্বাচনে যে সেনা মোতায়েন করতেই হবে এমন নয়, তবে আইনি ভিত্তি থাকলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হয়।
এছাড়া, প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে ইসি। সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে এতদিন কোনো স্পষ্ট আইনি বাধা ছিল না। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউপি সদস্য পদ বাদে অন্যান্য স্থানীয় স্তরে দ্বৈত নাগরিকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হিসেবে যুক্ত করার সুপারিশ করা হচ্ছে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য করার বিষয়ে ইসি আপাতত কোনো প্রস্তাব রাখছে না।
আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনাটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। কমিশন থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর তা সুপারিশ হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে মন্ত্রিসভা ও সংসদে চূড়ান্ত পাসের মাধ্যমেই প্রস্তাবিত আইনি পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।