দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যাধি এড়াতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি খাবার বেছে নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

আমাদের শরীরে আঘাত পেলে বা কোনো জীবাণুর সংক্রমণ হলে প্রাথমিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে প্রদাহ বা ‘ইনফ্ল্যামেশন’ তৈরি হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু শরীরে যদি দীর্ঘমেয়াদে কম মাত্রার প্রদাহ চলতেই থাকে, তবে তা হৃদ্‌রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা, ফ্যাটি লিভার এবং ক্যানসারের মতো নীরব ঘাতক ব্যাধি ডেকে আনে। স্বাস্থ্যবিদদের মতে, আমাদের প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাসই এই প্রদাহ বাড়ানো বা কমানোর মূল নিয়ামক।

শরীরকে রোগমুক্ত ও সতেজ রাখতে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ‘অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি’ বা প্রদাহরোধী খাবার যুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আমাদের দেশীয় খাবারের মাঝেও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রদাহরোধী উপাদান। প্রতিদিনের পাতে বিভিন্ন রঙের শাকসবজি (যেমন- পালংশাক, গাজর, টমেটো, ফুলকপি), মৌসুমী ফল (আমলকী, পেয়ারা, লেবু), ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ (ইলিশ, সামুদ্রিক ও ছোট মাছ) এবং দেশীয় বিভিন্ন ডাল রাখা অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া রান্নায় ব্যবহৃত হলুদ, আদা, রসুন, দারুচিনি এবং খাঁটি শর্ষের তেল বা অলিভ অয়েলও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা রাখে। পূর্ণ শস্যের লাল চালের ভাত, লাল আটা, চিনি ছাড়া টক দই এবং বাদাম বা বীজজাতীয় খাবার নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত।

পুষ্টিবিদরা থালায় খাবার পরিবেশনে একটি আদর্শ প্লেট বিন্যাসের পরামর্শ দিয়েছেন, যার অর্ধেক অংশে থাকবে বিভিন্ন শাকসবজি ও সালাদ, এক-চতুর্থাংশ লাল চালের ভাত, এক-চতুর্থাংশ মাছ বা ডাল এবং সঙ্গে ফল বা টক দই।

অন্যদিকে, প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার শরীরকে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের দিকে ঠেলে দেয়। অতিরিক্ত চিনিজাতীয় পানীয়, মিষ্টি, ডুবোতেলে ভাজা সিঙাড়া-পুরি, প্যাকেটের প্রসেসড স্ন্যাকস, ময়দার তৈরি সাদা পাউরুটি ও ট্রান্সফ্যাট যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপন করতে কেবল একটি একক খাবার নয়, বরং সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করে প্রদাহমুক্ত সুস্বাস্থ্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *