সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এনে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

              নিজস্ব প্রতিনিধি\ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ইমোতে কথোপকথন ও প্রেমের সম্পর্কের জেরে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসা ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে কিশোরীকে কুমিল্লায় ডেকে এনে ময়নামতি পাহাড়ের পাদদেশের নির্জন এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে রাজীব আহমেদ (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

              গত শুক্রবার (২৫শে সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের মিরপুর উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আজগর আলীর ছেলে এবং এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

              পুলিশ ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে রাজীবের সঙ্গে ওই কিশোরীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার রাজীবের খালাতো বোনের বিয়ের দাওয়াতের আমন্ত্রন পেয়ে ওই  কিশোরী ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসে। রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বাস থেকে নামলে রাজীবের সঙ্গে তার দেখা হয়।

              পরে তারা একটি হোটেলে খাবার খায়। রাত ১টার দিকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে রাজীব কিশোরীকে ময়নামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে পাহাড়ের পাদদেশের নির্জন স্থানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে কিশোরীর অভিযোগ। ধর্ষণের পর তাকে মারধর করে রাজীব ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

              আহত অবস্থায় কিশোরীকে দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ভোররাতে ময়নামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

              দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সুরজিত বড়–য়া জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে। তার কাছে থাকা ছবি ও মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে রাজীব আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

              বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজীব আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *