নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর ১২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

              নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লার লাকসামে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর ১২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। শিক্ষা বিস্তার, নারীশিক্ষার প্রসার, সমাজসংস্কার ও মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান রাখা এই মহীয়সী নারীর স্মরণে গত বুধবার বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

              ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টায় লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁওয়ে অবস্থিত নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর সমাধিতে লাকসাম উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় জাদুঘরের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানী হাউসে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

              অনুষ্ঠানে নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর জীবন, কর্ম, শিক্ষা বিস্তারে অবদান এবং নারী জাগরণে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমা, লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী, লাকসাম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, সিদ্দিশ্বরী গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা রাশিদা বেগমসহ লাকসাম জমিদার বাড়ি জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

              আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন নারীশিক্ষা ও সমাজকল্যাণে অগ্রণী এক ব্যক্তিত্ব। যে সময়ে নারীদের শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত, সে সময় তিনি নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে শিকষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৮৩৪ সালে জন্মগ্রহণকারী নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানী তাঁর জীবদ্দশায় শিক্ষা, সমাজসংস্কার ও জনকল্যাণে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। বিশেষ করে নারীশিক্ষার প্রসার ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তাঁর উদ্যোগ তৎকালীন সমাজে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। শিক্ষার পাশাপাশি তিনি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হয়ে আসছে। তাঁর কর্মময় জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

              উল্লেখ্য, ১৯০৩ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানী মৃত্যুবরন করেন। মৃত্যুর ১২৩ বছর পরও শিক্ষা, নারী জাগরণ ও সমাজকল্যাণে তাঁর অবদান মানুষের কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে আছে। বক্তারা নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর স্মৃতি সংরক্ষণ, তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান এবং ভূমির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *