৩২টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৪ দিনের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন!

             

ষ্টাফ রিপোর্টার\ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

              উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী বলে খ্যাত নিউইয়র্ক সিটির প্রাণকেন্দ্রে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া তিনি ৭টি উচ্চ পর্যায়ের সভায় বক্তব্য প্রদান করেন।

              পাশাপাশি ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

              প্রধানমন্ত্রীর একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করাকে বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য ঘটনা বলে অভিহিত করে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

              গত সোমবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

              এতে আরও বলা হয়েছে, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

              বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে যে, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এক ঐতিহাসিক ঘটনা, যা দেশের জন্যও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

              উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৮০ সালের ২৬শে আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে ১৯৯৩ সালের ১লা অক্টোবর তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

              জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

              গত রোববার (২৭শে সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপুল সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

              উপ-প্রেস সচিব বলেছেন, ‘রোববার সকাল ৮টা ২১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস্-এর  ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি ঢাকায় হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছিয়েছে।’

              এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় ২৫শে সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে এসেছিলো।

              দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসেন।

              এখানে উল্লেখ থাকে যে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষ্যে আমেরিকার রাজধানী বলে খ্যাত নিউইয়র্ক সিটিতে সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শান্তি, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবিক বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন।

              এরমধ্যে নিউইয়র্কে চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। তন্মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

              এখানে উল্লেখ থাকে যে, ঢাকা ফেরার আগে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

              মাহদী আমিন আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, ইউএনজিএর সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

              প্রকাশ থাকে যে, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও নিউইয়র্কে সফরকালে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রেখেছেন। এগুলোর মধ্যে- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানও ছিলো।           এখানে প্রকাশ থাকে যে, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মানবিক সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি একটি কার্যকর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।

              প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এবং রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে সংকটের মূল কারণ মোকাবিলা, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহŸান জানান। ওই বৈঠকে জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খান সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন।

              প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গাবিষয়ক বক্তব্য নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আইরিন খান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে। একদিকে ১২ লাখের বেশি শরণার্থীকে মানবিক সহায়তা দিতে হবে, অন্যদিকে কঠিন সময়ে আশ্রয়দাতা দেশ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং পাশাপাশি এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানও খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

              তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠী বর্তমানে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী শিবিরে বসবাস করায় রোহিঙ্গাদের জীবন বিশেষ করে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের কারণে মানবিক সহায়তার প্রয়োজনও ক্রমেই বাড়ছে।

              আইরিন খান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী হলেও তারা নিরাপত্তা, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পরই ফিরতে আগ্রহী।

              এছাড়া, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে হবে। এতে বাংলাদেশসহ আশ্রয়দাতা দেশ, আঞ্চলিক দেশ এবং মিয়ানমারকে যুক্ত করার পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর প্রভাব রয়েছে বা প্রক্রিয়াটিতে অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে- এমন দেশগুলোকেও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

              তিনি আরো বলেন, এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন, যার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে- যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে পারেন।

              ওদিকে, জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে আইরিন খান বলেন, জাতিসংঘের একার পক্ষে এ ধরনের সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকেও নিজেদের দায়িত্ব আরো গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলোর আরো কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

              প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৪শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রয়েছে- দ্রæত নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরি, সহিংসতা বন্ধ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা দেয়া, বিচার ও জবাবদিহি জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রসঙ্গ সমূহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *