👁 469 Views

সরকারি টাকায় মডেল মসজিদ নির্মাণ সংবিধান পরিপন্থি: শাহরিয়ার কবির

            ষ্টাফ রিপোর্টার\ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, সারাদেশে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে মডেল মসজিদ নির্মাণ সংবিধানের পরিপন্থি। একমাত্র আমরাই এটি নিয়ে প্রতিবাদ করেছি। বাংলাদেশের কোনো সংগঠনের সাহস হয়নি এ প্রসঙ্গ তোলার।

            গত বুধবার সন্ধ্যায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে মহান স্বাধীনতার মাস মার্চে ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

            শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ৫৬০টি মডেল মসজিদ বানাচ্ছে সরকার, কাদের টাকা দিয়ে? আমাদের জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে এগুলো বানানো হচ্ছে। সংবিধানের ৭ এর ‘ক’ ধারায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে- রাষ্ট্র কোনো বিশেষ ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা করবে না। আপনি যদি এতগুলো মডেল মসজিদ বানান, কেন আপনি ৫৬টি মন্দির-প্যাগোডা ও গির্জা বানাবেন না। আর তাই যদি করতে হয় তাহলে সব অর্থ সেখানে আপনি ব্যয় করুন।

            তিনি বলেন, দুর্নীতির বাইরে কোন দেশ আছে এই উপমহাদেশে, একটি দেশের নাম বলুন? ভারত দুর্নীতির বাইরে? পাকিস্তান দুর্নীতির বাইরে? কিন্তু যেভাবে আমাদের সমাজ রাজনীতির মৌলবাদীকরণ সাম্প্রদায়িকীকরণ হচ্ছে, এটাকে প্রতিহত করতে না পারলে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবে না, পাকিস্তান হয়ে যাবে। অর্থাৎ একটি ব্যর্থ, সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হয়ে যাবে। আমাদের উদ্বেগটা হচ্ছে সেই জায়গায়।

            তিনি আরও বলেন, আপনারা স্বাস্থ্য, পরিবেশ নিয়ে কথা বললেন। অনেক বিষয় উঠে এসেছে। কিন্তু ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ফোকাস করছে সংবিধানের মূল জায়গাটিতে। ৭২-এর সংবিধানের মূল চেতনায় আমাদের ফিরে যেতে হবে। কিন্তু এ দায়িত্ব নির্মূল কমিটির একার দায়িত্ব নয়, এর সঙ্গে যত সমমনা সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠন এবং ব্যক্তি আছে, এদের সবাইকে নিয়ে আন্দোলনটা করতে হবে।

            অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, যে দল সরকারে আছে সেই দলই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে দিয়েছিল। এখন এই সরকারে অনেক মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী লোক ঢুকে পড়েছে। শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়; প্রশাসনে, বিচার বিভাগে, পুলিশে সব জায়গায় কিন্তু মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা জেঁকে বসেছে। তাদের মুখোশ উন্মোচন না করে তারা এই সরকারকে প্রভাবিত করছে। এটি কিন্তু বাস্তব সত্য, যার জন্য মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা সেই দিকে দেশ এগোচ্ছে না।

            তিনি বলেন, এখন দল ভারী করার জন্য জামায়াত-বিএনপি-শিবির এদের নিলে দলের যে বৈশিষ্ট্য সেটি আর থাকবে না। যারা এসব দল থেকে আওয়ামী লীগে ঢোকার চেষ্টা করছে তাদের একটাই উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের লোকদের যদি জামায়াতি আদর্শে, ভাবধারায় পরিণত করা যায়। সেই দিকে তারা এগোচ্ছে- কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আওয়ামী নেতারা সেদিকে খেয়াল করছে না।

ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আফজাল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. মফিজুল ইসলাম মান্টুসহ অনুষ্ঠানে আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। সুত্র: কালবেলা

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *