
বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের ‘বিশ্বের শেষ’ ভবিষ্যদ্বাণী: আর কতটা সময় আছে!!

ষ্টাফ রিপোর্টার॥ বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আমাদের জন্য রেখে গেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা, যা মানবজাতির ভবিষ্যৎ এবং অস্তিত্বের শেষ নির্দেশ করে। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলো ছিল- বিজ্ঞানভিত্তিক, তবে অনেক ক্ষেত্রেই এটি ভয়াবহ। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি সেই ভবিষ্যৎ বাস্তবতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছি?
হকিং বারবার বলেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে পৃথিবী একসময় ভেনাসের মতো হয়ে যেতে পারে। এর ফলে অতি তাপমাত্রা, বিষাক্ত বৃষ্টি এবং মানব বসবাসের অযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। তিনি কার্বন নির্গমন কমানো এবং টেকসই শক্তি ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছিলেন।
হকিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এক সময় অও মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং মানবজাতির জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে যদি এটি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে সংঘর্ষ ও পরিবেশ ধ্বংসের সমস্যা রয়েছে। পরমাণু অস্ত্রও মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য একটি বড় অস্ত্র হিসেবে থেকে গেছে।
হকিং প্রাকৃতিক বা তৈরি করা জীবাণুর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মহামারির সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন। ঈঙঠওউ-১৯ মহামারি দেখিয়েছে, মানবজাতি কতটা দুর্বল হতে পারে।
যদিও এটি বিরল, হকিং বলেছিলেন, একটি বড় গ্রহাণুর আঘাত পৃথিবীর জীবনের জন্য ধ্বংসাত্মক হতে পারে, যেমনটি ডাইনোসরদের বিলুপ্তির সময় ঘটেছিল।
বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বিশ্বাস করতেন, মানবজাতিকে টিকে থাকতে হলে একাধিক গ্রহে বসবাস করতে হবে। তিনি বলেছিলেন, যদি আমরা এই মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদের কাছে হয়তো মাত্র ১০০ থেকে ১,০০০ বছর সময় বাকি আছে।
ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, চরম আবহাওয়া এবং বন উজাড় আমাদের শেষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। চলতি সংঘর্ষ এবং পরমাণু অস্ত্রের হুমকি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। কিছু অগ্রগতি হলেও, নতুন জীবাণুর ঝুঁকি থেকেই গেছে।
হকিংয়ের সতর্কবার্তাগুলো ছিল একটি বার্তা , যা আমাদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সক্রিয় হতে বলে। প্রযুক্তি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা এই বিপদ কমাতে পারি। এখন সিদ্ধান্ত আমাদের- আমরা কি সময়মতো এই সতর্কবার্তা শুনবো এবং ব্যবস্থা নেবো, নাকি নিজেদের ভবিষ্যৎকে বিপদের দিকে ঠেলে দেবো? ঠিক পদক্ষেপ নিলে, ‘বিশ্বের শেষ’ কেবল একটি ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবেই রয়ে যেতে পারে।