
ষ্টাফ রিপোর্টার॥ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গণিত ও ইংরেজিতে বড় ধরনের দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি প্রথম পত্রে ফেল করেছে ২৭ হাজার ২৮১ জন এবং গণিতে ফেল করেছে ২৬ হাজার ৬১০ জন।
এদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে হিসাব বিজ্ঞান ও ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিষয়ে ফেলের হার এই বিভাগে শিক্ষার্থীদের ভরাডুবির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিসাব বিজ্ঞানে ফেল করেছে ৫ হাজার ১৬ জন, যা ওই বিভাগে পরীক্ষার্থীর ১১.৬৪ শতাংশ। এছাড়া ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং এ ফেল করেছে ৪ হাজার ৯ জন, যা ব্যবসায়ী শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীর ১০.২৩ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চতর গণিতে ফেল করেছে ওই বিভাগে শিক্ষার্থীদের ৮.৭৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে বোর্ডে মোট ফেল করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫১ হাজার ৮২৬ জন।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি প্রথম পত্রে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৬ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছে।
গণিতেও একই চিত্র। ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২১৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ২৬ হাজার ৬১০ জন। এ বিষয়ে পাসের হার ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, অধিকাংশ বিষয়ে পাসের হার তুলনামূলক বেশি। বাংলায় পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষায় ৯৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ, সাধারণ বিজ্ঞানে ৯৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং পদার্থবিজ্ঞানে ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞান ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়েও দুর্বল ফল দেখা গেছে। হিসাববিজ্ঞানে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে ৮৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
ইংরেজি ও গণিত এই দুই বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা, নিয়মিত অনুশীলন এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক পাঠদানের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়ভিত্তিক গড় ফলাফল ইংরেজি ও গণিতে খারাপ হয়েছে। যার কারন হিসেবে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত চর্চার অভাব ও পর্যাপ্ত শিক্ষকের অপ্রতুলতাকে শনাক্ত করেছেন তিনি। উল্লেখিত বিষয়গুলো সামনে রেখে শিক্ষাবোর্ড ভবিষ্যতের জন্য কাজ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।