
সৈয়দ মুজিবুর রহমান দুলাল\ লাকসাম নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ ও ওয়াকফ সম্পদ সংরক্ষণের দাবীতে মানববন্ধন কলেজ শিক্ষার্থীরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ওয়াকফকৃত সম্পত্তি সংরক্ষণের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
গত রোববার (১৩ই সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজটি এতদাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী একটি কলেজ। কলেজটির নামে ৮ একরের অধিক সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু অনেক সম্পত্তি কতিপয় ভুমিদস্যুরা নানাহ কৌশলে দখল করে ফেলেছে। ওইসব ভুমিদস্যুরা নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ওয়াকফকৃত মূল দলিল উপেক্ষা করে ক্রটিপূর্ণ বিএস খতিয়ান সৃজনের মাধ্যমে কলেজের ভেতর এবং বাইরে পোস্ট অফিস সংলগ্ন ২২১৬ দাগে ১৪ শতক জায়গার মধ্যে কতেক জায়গা এবং প্রফেসর কলোনীর কলেজ শিক্ষকদের থাকার জন্য বাসা-বাড়িসহ বিশাল জায়গা ইতোমধ্যে দখল করে নিয়ে গেছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সর্বশেষ গত ৮ই সেপ্টেম্বর নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ওয়াকফকৃত প্রতœতত্ত¡ বিভাগের নামে গেজেটভুক্ত ৬৩০ নম্বর খতিয়ানের ২২২২ দাগে ৭১ শতক জায়গা জবরদখলের চেষ্টা চালায় ভুমিদস্যুরা। ভুমিদস্যুরা ওই জায়াগা দখলের চেষ্টা চালিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি। বরং কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজেও বাধা প্রদান করেন। এ সময় কলেজের পক্ষে কাজকর্ম দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মো. ফখরুল লতিফ কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজেও অনৈতিকভাবে বাধা প্রদানের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে নাজেহাল করেন।
এদিকে শিক্ষার্থীরা ভূমিদস্যুদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী কর্তৃক কলেজ শিক্ষকের ওপর চড়াও হওয়া, কলেজের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা প্রদানের প্রতিবাদে এবং ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী কর্তৃক জনকল্যাণমূলক কাজে ওয়াকফকৃত বেহাত হওয়া জবরদখলকৃৃত সম্পত্তি ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মো. দিদার হোসাইন, মো. রাকিবুল হাসান এবং মো. আরাফাত হোসেন প্রমূখ। শিক্ষার্থীরা বলেন, কলেজের একইঞ্চি জায়গাও যেনো কোনোভাবে আর কেউ জোরপূর্বক দখল করতে না পারে সেদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। এছাড়া, মহিয়সী নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর জনকল্যামূলক কাজে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান শিক্ষার্থীরা।
নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মো. ফখরুল লতিফ জানান, ঘটনারদিন কতিপয় লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করেন। এ সময় আমি কলেজের স্বার্থে এগিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজে কেনো বাধা দেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তাঁরা আমার ওপর চড়াও হয়ে আমাকে নাজেহাল করেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, ভূমিদস্যুরা প্রথমে পোস্ট অফিস সংলগ্ন রাস্তা ও কলেজ ক্যাম্পাসের বাউন্ডারীর নির্মাণ কাজে বাধা দেয়। একপর্যায়ে ভূমিদস্যুদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কাজের দেখভাল করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ফখরুল লতিফের ওপর চড়াও হয়। এমন পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামকে অবহিত করেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, বিষয়টি অবগত হয়ে উপজেলা প্রশাসন ও লাকসাম থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশ দেন। সংসদ সদস্যের কঠোর নির্দেশে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভূমিদস্যুদের পরিকল্পনা ভুলণ্ঠিত হয়।
কলেজের বৃহৎ স্বার্থ রক্ষায় সময়পোযোগী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় মো. আবুল কালাম এমপির প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এলাকাবাসী ও নবাব ফয়জুন্নেছা সলকারি কলেজ সূত্রে আরো জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তৎকালীন আওয়ামীলীগের সুবিধাভোগী কতিপয় নেতাকর্মীর ছত্রছায়ায় এবং প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ভূমিদস্যুরা নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের নামে ওয়াকফকৃত অনেক জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কতিপয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীর প্রত্যক্ষ ইন্দনে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলে ভূমিদস্যুদের ষড়যন্ত্র ও তৎপরতা শুরু হয়।
এই ব্যাপারে জাতীয় সংসদ সদস্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালাম বলেন, আমি জনগণের প্রতিনিধি। জনগণের স্বার্থ সুরক্ষা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আমি বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, বিএনপি দলীয় পরিচয়ে যদি কেউ চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কিংবা মাদকসেবন বা মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকে সেই অপরাধীর বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স। এছাড়া, এমন কোনো অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।