৩ আসামির জবানবন্দিতে অপ্রতিম হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা

              নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার পর এক আসামি অপ্রতিমকে খুঁজতে বের হয়, অন্য দু’জন আসামি দেয় শোকের পোস্ট। অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গত ২০শে সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির কাছে দেয়া ৩ আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

              নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আদালত ও পুলিশের সূত্র এই তথ্য জানিয়েছেন। জবানবন্দি দেয়া আসামিরা হলেন- সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), দুই কিশোর (১৬) ও (১৫)। অপর আসামি সিয়াম (১৮) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। প্রধান আসামি তুহিন জানান, হত্যার পরদিন সকালে অপ্রতিমের মামা তাঁকে ফোন করে অপ্রতিমের খোঁজ নেন।

              এরপর তিনি বন্ধু সিয়ামকে নিয়ে কোটবাড়িতে অপ্রতিমের খোঁজ করতে যান। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তুহিন ও সিয়াম শোক জানিয়ে ফেসবুকে প্রোফাইলে পোস্টও করেন। অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোর আসামি (১৬) বলে, পরদিন সে অপ্রতিমের বাবার একজন সহকারীর সঙ্গে অপ্রতিমকে খুঁজেছে। অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে সেও ঘটনাস্থলে যায়।

              এদিকে আসামিরা জানায়, অপ্রতিম হত্যার পরিকল্পনা করা হয় ঘটনার সাত দিন আগে। এ নিয়ে বিস্তারিত কথোপকথন হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ই সেপ্টেম্বর দুপুরে অপ্রতিমকে ডেকে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

              সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে তুহিন জানিয়েছেন, পাঁচ-ছয় মাস ধরে অপ্রতিমের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। এরপর সিয়ামের মোটরসাইকেলে করে ছবি তোলা ও টিকটক করার জন্য অপ্রতিম তাদের সঙ্গে বের হতো।

              অপ্রতিমের আইফোনের ওপর লোভ ছিল তুহিন ও সিয়ামের। তুহিনের দাবি, ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের একটু সামনে দু’জনের দেখা হয়। সেখানেই আইফোন নেয়া এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

              স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কিশোর আসামি (১৬) জানায়, আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে মারার পরিকল্পনা করে তুহিন। তৃতীয় জবানবন্দিতে আরেক কিশোর আসামি (১৫) জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে তার বন্ধুই তাকে পরিকল্পনার কথা জানায় যে তুহিনের সঙ্গে মিলে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হবে।

              ১৭ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের দেখা হয়। অপ্রতিম তাঁকে নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টের ঠিকানা দেয়। ওই রাতেই টিকটকে অপ্রতিমকে মেসেজ করেন তুহিন। পরে অপ্রতিম একটি মোবাইল ফোন নম্বর দিলে সেই নম্বরে কথা হয়। পরদিন জুমার নামাজের পর দেখা করার সিদ্ধান্ত হয় তাদের। আসামির (১৬) বর্ণনা মতে, দুপুর ২টার পর কোটবাড়ির বোর্ড মার্কেট এলাকায় তার সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। পরে সন্ধ্যার আগমুহূর্তে সে বন্ধুকে (১৫) নিয়ে পাহাড়ে যায়। যাওয়ার আগেই ওই বন্ধুকে পরিকল্পনার কথা খুলে বলে। আসামি (১৬) জানায়, সে অপ্রতিমের কাছে ফোন চাইলে অপ্রতিম সেটি তাকে দেয়। কিছুক্ষণ ব্যবহারের পর সে ফোনটি তুহিনের হাতে দেয়। এরপর ফোন নিয়ে অপ্রতিম ও তুহিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এরপর তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে। প্রথমে অপ্রতিমকে একটি থাপ্পড় মারেন তুহিন। এরপর পাশে পড়ে থাকা কোদালের হাতল নিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করা হয়। তারপর তুহিন অন্য দু’জনকে বলেন, অপ্রতিমকে মারতে। সে আরো জানায়, তাদের পরিকল্পনা ছিল, তুহিন ওই মোবাইল ফোন বিক্রি করে তাদের (১৫) ও (১৬) টাকার ভাগ দিবে।

              কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জবানবন্দি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি আসামি সিয়ামের বিষয়ে বলেন, সিয়াম এখনো স্বীকারোক্তি দেননি। তাঁর বিষয়ে তদন্ত চলছে। রিমান্ডের বিষয়টি আরো পরে জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *