
কপিল ঘোষ\ শ্রী দুর্গাপূজা এখন আন্তর্জাতিকভাবে ‘মানবতার অস্থাবর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ বা ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃত। ২০২১ সালের ১৫ই ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর ১৬তম আন্ত সরকার কমিটির অধিবেশনে দুর্গাপূজাকে মানবতার অস্থাবর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বা ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ বা মানবতার অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
এই ঘোষণার মাধ্যমে দুর্গাপূজা বিশ্বজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে সনাতন হিন্দুদের সংস্কৃতি, গৌরব ও মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সনাতন ধর্মের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। প্রতিবছর আশ্বিনের শুক্লা ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত বাংলাদেশে তা সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়।
প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা, প্রকৃতিকে আরাধনার অন্যতম আয়োজন দুর্গাপূজা। শরৎকালে শারদীয় দুর্গোৎসব এবং বসন্তকালে বাসন্তী পূজা হতে দেখা যায়। এ দুই সময়ে প্রকৃতি অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি রূপ-রস-ঘ্রাণে ফলবতী থাকে। প্রকৃতির এই উৎসব ধর্মের সীমানা পেরিয়ে বাংলার সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়।
অসুরীয় নেতিবাচক মানসিকতার বিনাশ ঘটিয়ে মানুষকে নবপ্রাণে বাঁচতে প্রেরণা দেয়। তবে বাসন্তী পূজার চেয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তা বেশি। দুর্গাপূজা একাধারে চারু-কারু ও ভাস্কর্য শিল্পের চর্চা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতা এবং বাংলার চিরায়ত সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে প্রবহমান রাখে।
সনাতন হিন্দু দর্শনে, ‘প্রকৃতি’ একটি সত্তা বা উপাদান, যা সমস্ত অভিজ্ঞতা, আবেগ ও বাস্তবতার দিকনির্দেশ করে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পুরাণে প্রকৃতিকে নারী হিসেবে চিত্রিত করা হয় এবং এর লালন-পালনকারী, জীবনদায়ী ও লালনশীলতার জন্য ‘মাদার নেচার’ (মাতা প্রকৃতি) বা ‘মাদার আর্থ’ (মাতা পৃথিবী) বলা হয়। শ্রীশ্রী দুর্গাপূজায় নারীকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। একজন নারী মানব সংসারের দশ দিক দশ হাতে সামলে অশুভ শক্তিকে দমন করে সবকিছু সামলে রাখেন।
শারদীয় দুর্গোৎসব সমাজকে অসহিষ্ণুতা, হিংসা, বিদ্বেষ ও দ্ব›দ্ব-সংঘাতের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্ত করে মানুষের মধ্যে ঐক্য, সমপ্রীতি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করে। ঐক্যবদ্ধ করে সমগ্র বাঙালিকে। এক মায়াবী বন্ধনে জড়িয়ে রাখে সব বাঙালিকে। দুর্গোৎসবের শুভ্র ও আনন্দ-জাগানিয়া পরশ শুধু বাঙালি হিন্দু ধর্মানুসারীদেরই নয়, এর চিরায়ত ঐক্যতান স্পর্শ করে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়কে।
দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার মঙ্গল ও হিত কামনায় মন জেগে ওঠে। পূজার শুরু ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমীর বিসর্জন পর্যন্ত সব আয়োজনে মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। এই উৎসব, সব মানুষের আনন্দঘন মিলনমেলা বিশ্বে বিরল; এমন অপূর্ব দৃশ্য শুধু বাংলাদেশেই দেখা যায়।
দুর্গাপূজা সর্বজনীন উৎসব। এটা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। এই উৎসব অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের জয়কে আহŸান করে। দুর্গাপূজার সর্বজনীন উৎসবে সনাতন হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। এই উৎসব মানুষের মধ্যে আত্মীয়তা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে এবং সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
প্রাচীন শাস্ত্র অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গোৎসব এবং ফসল কাটার সময়ের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। এটি মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন কৃষিনির্ভর সমাজব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। শারদীয় দুর্গোৎসব আসলে শরৎ ঋতুতে পালিত হয়, যা ফসল কাটা বা শারদীয় ফসল সংগ্রহের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। এই ঋতুতে কৃষকরা সাধারণত তাঁদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তোলেন; এবং তা উদযাপনের অংশ হিসেবে দেবী দুর্গার পূজা করা হয়।
দেবী দুর্গা মূলত শক্তির প্রতীক হিসেবে পূজিত হন। শাস্ত্র অনুযায়ী তিনি মহিষাসুর নামক অসুরের বিনাশকারী। এই পূজার মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে এক ধরনের পারস্পরিক সংযোগও প্রতিফলিত হয়। দেবী দুর্গা মূলত কৃষিকাজ এবং ফসল উৎপাদনের উর্বরতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হন। প্রাচীন যুগে যখন ফসল ভালো হতো, তখন কৃষকরা দেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে পূজা করতেন, যাতে আগামী বছরের ফসলও ভালো হয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
কৃষি ও পূজার এই সংযোগের পেছনে এক ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকও কাজ করে। ফসল কাটার পর কৃষকদের হাতে কিছুটা অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসে এবং এই সময় তাঁরা বিভিন্ন উৎসবও পূজা উদযাপন করেন। এতে দেবীর পূজা শুধু আধ্যাত্মিক নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্ব বহন করে।
দুর্গাপূজার প্রথম লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন ভারতীয় পুরাণ ও ধর্মগ্রন্থে। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, দেবী দুর্গা মহিষাসুর নামের এক অসুরকে বধ করে দেবতাদের রক্ষা করেন। এই দেবী দুর্গা হলেন শক্তির প্রতীক, যিনি শৃঙ্খলা ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই বিজয়কে কেন্দ্র করেই দুর্গাপূজার মূল ধারণা গড়ে ওঠে। দেবী দুর্গার এই রূপ বাঙালি হিন্দুদের কাছে মহাশক্তি ও মাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়।
দেবী দুর্গা কর্তৃক মহিষাসুরকে বধ করার ঘটনাটি হিন্দু পুরাণে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উপাখ্যান হিসেবে বিবেচিত। দেবী দুর্গা এখানে শুদ্ধ শক্তির প্রতীক, আর মহিষাসুর হলো অশুভ শক্তির প্রতীক। এই কাহিনি মূলত ন্যায় ও অন্যায়ের চিরন্তন লড়াইয়ের প্রতীক।
দেবী দুর্গা জগন্মাতা হওয়ায় প্রত্যেক জীব তাঁর সন্তান। প্রত্যেক দেব-দেবীর প্রতিমার সঙ্গে বিগ্রহরূপে বিভিন্ন প্রাণী, যেমন- সিংহ, মহিষ, সাপ, ময়ূর, হাঁস, প্যাঁচা, ইঁদুর ইত্যাদি দেখা যায়। অর্থাৎ প্রকৃতিতে আমরা সবাই একে অন্যের আত্মীয়স্বরূপ। সুন্দর সমাজব্যবস্থা, শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পৃথিবীর জন্য যে বিশ্বভ্রাতৃত্বের কথা বলা হয়, শ্রীশ্রী দুর্গাপূজার আয়োজন সেই চেতনা বহন করে।
সমাজের সব স্তরের নারীকে মাতৃজ্ঞানে মর্যাদা দান করা হয় এই দুর্গাপূজায়। সনাতন ধর্মে পরস্ত্রীকে মায়ের সম্মানে দেখতে বলা হয়েছে। পরস্ত্রীকে যদি সবাই দেবীর অংশরূপে মাতৃজ্ঞানে সম্মান করে, তাহলে সমাজ কলুষমুক্ত হবে। দুর্গাপূজা আমাদের চিত্তে সেই মূল্যবোধ ও আদর্শ উজ্জীবিত করে।
পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, আদিতে দুর্গাপূজা বসন্তকালে করা হতো, যা ‘বাসন্তী পূজা’ নামে পরিচিত। কিন্তু রামায়ণে উল্লেখ আছে, শ্রীরামচন্দ্র শরৎকালে দুর্গাকে পূজা করে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছিলেন রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভের জন্য। এ জন্য এই শারদীয় দুর্গাপূজাকে ‘অকালবোধন’ বলা হয়, যা পরে শারদীয় দুর্গোৎসব হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। শারদীয় দুর্গাপূজার বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে আছে শরৎ ঋতুর বিশেষ প্রভাব।
ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার জমিদার ও রাজপরিবারগুলোর উদ্যোগে দুর্গাপূজা বিশাল আকার ধারণ করে। এ সময় বাংলার জমিদাররা তাঁদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি প্রদর্শন করতে দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন। বিশেষ করে নদীয়া, কৃষ্ণনগর, ও কাশিমবাজারের রাজপরিবারগুলো দুর্গাপূজাকে বর্ণাঢ্য ও রাজকীয় আকারে উদযাপন করত। এ সময় থেকেই দুর্গাপূজা সমাজের অভিজাত শ্রেণির উৎসব হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতায় দুর্গাপূজা আরো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়। সেই সময় বাঙালি ধনী ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ দুর্গাপূজা ঘিরে সামাজিক মেলবন্ধন ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটায়। তখন থেকে বারোয়ারি বা সর্বজনীন দুর্গাপূজার প্রথা শুরু হয়, যেখানে ব্যক্তিগত বাড়ির পরিবর্তে সমাজের সবার জন্য উন্মুক্ত পূজার আয়োজন শুরু হয়।
জানা যায়, রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য পৃথিবীতে প্রথম দুর্গাপূজা করেছিলেন। বাংলাদেশে রাজশাহী জেলার অন্তর্গত তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ ১৫৮০ ক্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম এই দুর্গোৎসব বাংলাদেশে প্রচার করেন। এরপর তা ক্রমবর্ধমান হতে হতে সমগ্র বঙ্গদেশে বিস্তার লাভ করে। দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, তা সনাতন সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশের ধারক ও বাহক।
বারোয়ারি পূজার সূচনা বাঙালি সংস্কৃতির একটি নতুন ধারা তৈরি করে, যা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। কলকাতার বাবু সংস্কৃতির সময় এই উৎসবের আকার ও ব্যাপ্তি বাড়তে থাকে এবং শিল্প-সংস্কৃতির মেলবন্ধন দুর্গাপূজার অংশ হয়ে ওঠে। প্রতিমা নির্মাণ, মন্ডপসজ্জা এবং পূজার আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাঙালির নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রদর্শনী ঘটতে শুরু করে।
আধুনিককালে দুর্গাপূজা একটি সর্বজনীন উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়, যেখানে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো একত্রে মিলে যায়। বাংলাদেশ ও ভারতের বাঙালি সমাজে শারদীয় দুর্গোৎসব আজও একই রকম উজ্জ্বলতা ও আবেগের সঙ্গে উদযাপন করা হয়।
দুর্গোৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক এখানে প্রতিফলিত হয়। মন্ডপগুলোতে যে শৈল্পিক সজ্জা ও প্রতিমা নির্মাণ করা হয়, তা শুধু ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক সৃষ্টিশীলতারও একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই শৈল্পিক কাজে যাঁরা আন্তরিকভাবে সম্পৃক্ত থাকেন, তাঁরা ধর্মীয় কারণের সীমানা পেরিয়ে শিল্পী হিসেবে তাঁদের সৌন্দর্যের উপস্থাপন করেন।
প্রতিমা গড়ার শিল্পকলা, মন্ডপসজ্জার কারুকার্য এবং পূজার আচার-অনুষ্ঠানের প্রতিটি ধাপে বাঙালি সংস্কৃতির গভীর শিকড় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। প্রতিমা তৈরিতে মাটির ব্যবহার, কুমারদের নৈপুণ্য এবং পূজার সংগীত-সংস্কৃতির মিশ্রণ বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে যে সামাজিক মেলামেশা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় ঘটে, তা সমাজে সংহতি ও ঐক্যের বার্তা দেয়। উৎসবের সময় নাটক, গান, নৃত্য, আলোকসজ্জা ও মেলা আয়োজিত হয়, যা সব বয়সের এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে একত্র করে। এই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রক্ষা ও প্রচারিত হয়। এ ছাড়া দুর্গাপূজার সময় গ্রামীণ মেলা ও হস্তশিল্প প্রদর্শনীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শারদীয় দুর্গোউৎসব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির মেলবন্ধন ও সামাজিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এই উৎসব শুধু ধর্মীয় পূজা নয়, এটি বাঙালি ঐতিহ্যের একটি বিশাল অংশ, যেখানে ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধন পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুর্গোৎসব শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব সারা দেশের সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনধারায় গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্তে¡ও বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে অনেকেই শারদীয় দুর্গোৎসবে অংশ নেয় এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে বিবেচিত। এটি সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা দেয়, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলিত হয়ে এই আনন্দঘন সময়ে শামিল হয়। মন্ডপ পরিদর্শন, পূজার আনুষ্ঠানিকতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ অংশগ্রহণ করে, যা ধর্মীয় উৎসবের সীমানা পেরিয়ে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সম্প্রীতি বহন করে।
এ ছাড়া দুর্গোৎসব বাংলাদেশে সামাজিক ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হিসেবে কাজ করে। সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কখনো কখনো উত্তেজনা দেখা দিলেও দুর্গোৎসবের সময় ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও মিলনের এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়, যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা দেয়। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে ধর্মীয় বৈচিত্র্য থাকলেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এতটাই দৃঢ় যে সবাই একে অপরের উৎসবে শামিল হয়।
তাই শারদীয় দুর্গোৎসব ধর্মীয় সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক সম্প্রীতির চিরায়ত সংস্কৃতিকে লালন করে। এই উৎসবকালে একজন মানুষ হিসেবে পাশের মানুষের আনন্দ ও দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।
লেখক: সাংবাদিক, লেখক ও উন্নয়নকর্মী