লালমাইয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে পিতা দাবি করে নারীর মামলা

            নিজস্ব প্রতিনিধি॥ কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বেলঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান আবু তাহের মজুমদারকে জন্মদাতা পিতা দাবি করে গ্রাম আদালতে মামলা করেছেন রোজিনা বেগম (৪২) নামের এক নারী। পিতৃপরিচয় চেয়ে এ মামলা করেন তিনি।

            মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেন- উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের সাধুরকলমিয়া গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল মৌলভীর ছেলে আবু তাহের মজুমদার তার জন্মদাতা পিতা। তিব্বত কম্পানির কুমিল্লা অফিসে চাকরি করাকালীন ৪৩ বছর আগে আবু তাহের মজুমদার ওই নারীর মা সুফিয়া বেগমকে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে করেন।

তাহের-সুফিয়ার দাম্পত্য জীবনে রোজিনার জন্ম হয়। এর কিছুদিন পরে আবু তাহের মজুমদার তিব্বত কম্পানির ঢাকা অফিসে যোগদান করেন এবং রোজিনার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে আবু তাহের মজুমদার চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে এসে প্রথম বিয়ের কথা গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

            রোজিনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে পিতৃপরিচয়ের দাবিতে ঘুরছি। বাবার বাড়িতে কয়েকবার গিয়েছি। আমার বাবা আমাকে সন্তানের স্বীকৃতি দেননি। বরং আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দিতেন। সে কারণে আমি এতদিন মামলা করতে পারিনি। বাবার কোনো সম্পত্তি আমার দরকার নেই। শুধু বাবাকে বাবা বলে ডাকতে চাই। সবাইকে জানাতে চাই, আমি বাবা ছাড়া নই। আমার বাবার নাম আবু তাহের মজুমদার। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক।’

            নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধুরকলমিয়া গ্রামের কয়েকজন জানান, রোজিনা বেগম আবু তাহের মজুমদারের মেয়ে কিনা সেটা ডিএনএ পরীক্ষা করলেই জানা যাবে। তবে ২৫/২৬ বছর পূর্বে রোজিনাকে নিয়ে তার মা আমাদের গ্রামে এসে বিচার চেয়েছিলেন। সে সময়ে শালিস বৈঠকে রোজিনার মা বিয়ের কাবিনের কপি দেখাতে পারেননি। তিনি মৌখিকভাবে হুজুর দিয়ে বিয়ে পড়ানোর দাবি করেছিলেন। উপযুক্ত প্রমাণ না দিতে পারায় পিতৃপরিচয়ের জন্য ৪২ বছর ধরে মেয়েটা ঘুরছে।

            আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহের মজুমদার বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। এসব মিথ্যা অভিযোগ। কিছু লোক আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *