
গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় ব্যর্থ হলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) বিকেলে বরিশাল নগরের বান্দ রোডে কে বি হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুপুর ১২টার পর থেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে সমবেত হন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা নতুন শাসনব্যবস্থা ও গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন চাই। কিন্তু মেকানিজমের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে তারা (বিএনপি) গণভোটের রায় ভুলে গেছে। জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না হলে এই সরকারকে জনগণ নিজেদের সরকার হিসেবে মেনে নেবে না।”
সরকার ভুল পথে হাঁটছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ইঙ্গিত করে বলেন, “সংসদে একজন অবৈতনিক শিক্ষক আছেন, যিনি প্রায়ই সংবিধান শেখান। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে তার পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আপনারা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছেন, যা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
আগামী ২৫ জুলাই সিলেটের সমাবেশের আগেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি মেনে নেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় ঢাকায় মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে ভোলাবাসীর জন্য সেতু নির্মাণ ও রেলাইন স্থাপনের জোর দাবি জানান তিনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষের হাতে ফ্যামিলি কার্ড ধরিয়ে দিয়ে দায় এড়ানো যাবে না। প্রয়োজন হলে আবারও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নামা হবে।
আবারও গণ-অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না হলে আবারও গণ-অভ্যুত্থানের মতো কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে জনগণ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “দেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে, তার মানে এই নয় যে যা খুশি, তা-ই করবেন বা জনগণের সঙ্গে ছলনা করবেন।” তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সরকারপ্রধান গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রচার চালালেও এখন তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য নয়, মূলত ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করেছে। ক্ষমতায় এসে এখন আর তারা সংস্কারের কথা বলছে না, এমনকি তাদের ঘোষিত ৩১ দফার কথাও ভুলে গেছে। নির্বাচনী ইশতেহারে ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই; বরং ছাত্রদল, যুবদল ও কৃষক দলের চাঁদাবাজি বেড়েছে। সংবিধান সংস্কারের নামে কোনো প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং নতুন গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে: অলি আহমদ
সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে। দলটি আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসবে না। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতে মুসলমানদের ওপর অত্যাচার ও বিভিন্ন উসকানিমূলক কথার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মহাসচিব আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ), বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু প্রমুখ।