
১১-দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচি থেকে ১০ দফা দাবি, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ বন্ধের আহ্বান
রাজধানীতে জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখা উচিত নয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণ আজ গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল এবং দ্রব্যমূল্যের চাপে দিশেহারা। সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি অভিযোগ করেন, গ্যাসের সরবরাহ না থাকলেও গ্রাহকদের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে এবং বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এসব সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরাও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে বলে যে আলোচনা চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায়কে সরকার সম্মান না করায় জনগণের অন্যান্য দাবিও উপেক্ষিত হচ্ছে।
১০ দফা দাবি
কর্মসূচি থেকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত সংস্কারে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- গত তিন মাসে আদায় করা ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানি আয়োজন।
- দোষীদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ।
- ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিল।
- অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া।
- বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও স্বাধীন অডিট।
- ‘গ্যাস না থাকলে বিল নয়’ নীতি কার্যকর করা।
- নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি প্রণয়ন।
- মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্পের তদন্ত ও বিকল্প জ্বালানি পরিকল্পনা প্রকাশ।
- গ্যাসের অপচয়, চুরি ও সিস্টেম লস রোধে কঠোর ব্যবস্থা।
- শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং খাতভিত্তিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগ
বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, পাঁচ মাসে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি সংকট নিরসন কিংবা বাজার নিয়ন্ত্রণ—কোনো ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে ২০২৪ সালের আন্দোলনের মতো ২০২৬ সালেও নতুন গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ক্যাম্পাস রাজনীতি নিয়েও মন্তব্য করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন ছাত্রদল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মহাসমাবেশ ও লংমার্চের ঘোষণা
সমাবেশে উপস্থিত বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান রাজধানীতে ১৪ নভেম্বর মহাসমাবেশ এবং দেশের চারটি বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া কর্মসূচিতে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, রফিকুল ইসলাম খান, এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাগপাসহ ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।