
১৩ আগস্ট মনোনয়ন দাখিল, ১৬ আগস্ট বাছাই, একক প্রার্থী হলে সেদিনই নির্বাচিত হতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রার্থী একজনই হলে ভোটের প্রয়োজন হবে না; সে ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে নতুন রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর নিজস্ব সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও থাকতে হবে। যাচাই শেষে যদি কেবল একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ থাকে, তাহলে নির্বাচনী কর্তা তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করবেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত একক প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। এরপর অনুষ্ঠিত প্রতিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেই একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও যাচাইয়ের কার্যক্রম প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে সম্পন্ন হবে এবং ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হলে তা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।