
সেবা ফি ৩ টাকা থেকে, মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩০ দিন
হঠাৎ প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে স্বল্প অঙ্কের ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়ার নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামের এই সুবিধা আগামীকাল রোববার চালুর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নগদ অর্থের সাময়িক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে আরও বেশি অভ্যস্ত করাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। প্রাথমিকভাবে যোগ্য গ্রাহকেরা ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
তবে এই ঋণের অর্থ হাতে পাওয়ার সুযোগ থাকছে না। নির্দিষ্ট ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেবা বা বিলদাতাকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
যেসব খরচে ব্যবহার করা যাবে
ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের অর্থ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্টে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ ইউটিলিটি বিল
- মোবাইল রিচার্জ
- শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়
- ভ্রমণ খরচ
- কর ও সরকারি সেবার ফি
- ঋণ বা আমানতের কিস্তি
- বিমার প্রিমিয়াম
ঋণের অর্থ কোনোভাবেই নগদে উত্তোলন করা যাবে না। এমনকি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) ওয়ালেটেও স্থানান্তর করা যাবে না।
৭, ১৫ ও ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ
নতুন এই ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা ৭, ১৫ অথবা ৩০ দিনের মেয়াদ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রচলিত সুদের পরিবর্তে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি নেওয়া হবে।
৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সেবা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে—
| ঋণের মেয়াদ | সর্বোচ্চ সেবা ফি |
|---|---|
| ৭ দিন | ৩ টাকা |
| ১৫ দিন | ৪ টাকা |
| ৩০ দিন | ৬ টাকা |
অন্যদিকে ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ সেবা ফি হবে—
| ঋণের মেয়াদ | সর্বোচ্চ সেবা ফি |
|---|---|
| ৭ দিন | ৩৫ টাকা |
| ১৫ দিন | ৭০ টাকা |
| ৩০ দিন | ১৩০ টাকা |
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত সুদ বা আগাম পরিশোধের জন্য কোনো বাড়তি ফি নেওয়া যাবে না। তবে সময়সীমা পার হলে জরিমানা আরোপের সুযোগ থাকবে। সেই জরিমানা সংশ্লিষ্ট ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দৈনিক সেবা ফির বেশি হতে পারবে না।
ছয় মাস চলবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম
প্রাথমিকভাবে অন্তত ছয় মাস পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই ব্যবস্থা পরিচালনা করবে ব্যাংকগুলো। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সেবাটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
পুরো প্রক্রিয়াটিই—গ্রাহক নিবন্ধন থেকে ঋণ অনুমোদন, অর্থ পরিশোধ এবং ঋণ ফেরত নেওয়া পর্যন্ত—ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
নিরাপত্তায় একাধিক স্তরের ব্যবস্থা
ডিজিটাল ঋণ ব্যবস্থায় গ্রাহকের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লেনদেনে ওটিপি, দুই স্তরের নিরাপত্তা যাচাই কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে।
এ ছাড়া এই সেবা পরিচালনায় ব্যাংকগুলো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং তথ্যনিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিবিধানের আওতাতেই থাকবে নতুন এ ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, ই-পেমেন্ট ক্রেডিট চালু হলে একদিকে জরুরি ছোটখাটো খরচ মেটাতে গ্রাহকেরা দ্রুত অর্থের সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে দেশে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহারও আরও বাড়বে।