যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন চুক্তির অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারকে ঘিরে বিস্ফোরক মন্তব্য জামায়াত আমিরের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তৎকালীন সরকার জনগণ বা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।

শুক্রবার রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে এক সুধী সমাবেশে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ হওয়া উচিত রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং শিল্প-কলকারখানায় উন্নয়ন নিয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে সংসদে গান-বাজনা, গালিগালাজ ও চরিত্রহননের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সংসদে সেই “নোংরা সংস্কৃতি” আর ফিরে আসবে না।

জামায়াত আমির বলেন, সংসদ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে, তাই সেখানে জনগণের সমস্যা ও উন্নয়নের বিষয়গুলোই গুরুত্ব পেতে হবে। সরকার ভালো কাজ করলে তারা সমর্থন দেবেন, আর খারাপ কাজ করলে সমালোচনা ও প্রতিরোধ করবেন বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংসদে আলোচনার দাবি তোলার পর সরকার বাধ্য হয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং পরে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তার দাবি, সেই উদ্যোগের পর দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করতে চান না। ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি বা লুটপাট নয়, বরং জবাবদিহিতামূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় লোকজনকে প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন তিনি।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে স্বাগত জানালেও তিস্তার স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো উন্নয়ন মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, তিস্তাপারের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও ওপর হামলা বা নির্যাতনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, দেশে সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল হালিম এবং মাহবুবার রহমান বেলালসহ জামায়াতের নেতারা।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *