
নিজস্ব প্রতিনিধি\ বুড়িচং থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অন্ত:সত্ত¡া গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, শারমিন আক্তার মুন্নি (২২) নামে দুই মাসের অন্তঃসত্ত¡া এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির ৪ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বুড়িচং থানায় এজাহার দায়ের করেছেন তার বাবা মো. মোস্তফা কামাল।
নিহত শারমিন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানী গ্রামের মো. মোস্তফা কামালের মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে বুড়িচংয়ের জগতপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে বাহরাইন প্রবাসী মো. জহিরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ৩ বছর বয়সী জেরিন আক্তার নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিলেন স্বামী জহিরসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। টাকা-পয়সা নিয়ে বিভিন্ন সময় শারমিনকে মারধরসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পর স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এজাহারে তিনি আরো অভিযোগ করেন, শারমিনকে প্রায়ই গালমন্দ, অপমান ও বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। তাকে আত্মহত্যার জন্যও প্ররোচনা দেয়া হতো।
গত রোববার সকালে শারমিনের স্বামী মো. জহির তার শ্বশুরকে ফোন করে জানান, শারমিনের অবস্থা ভালো না এবং তাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। খবর পেয়ে মোস্তফা কামাল স্বজনদের নিয়ে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় শারমিনের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির কাউকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।
বাদীর অভিযোগ, শারমিনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কক্ষের দরজা ভেঙে ঘরের তীরের সঙ্গে শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে বুড়িচং থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে শারমিনের স্বামী মো. জহির (৩৫), শ্বশুর মো. মোসলেম উদ্দিন (৫৫), শাশুড়ি মোসা. রেহেনা বেগম (৫২) ও দেবর মো. কবির হোসেনের (২৫) বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে এজাহার দায়ের করেন।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।