শান্তিতে নোবেল পেলেন মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ও আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী ওসলোর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে। কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নাভি পিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

নোবেল কমিটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকা, বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা এবং সাহসিকতাকে বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি বর্ণবৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াই শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ১৯৮৮ সালে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান পিল্লাই। ১৯৯৯ সালে তিনি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও ঘৃণা ছড়ানোর মতো অপরাধকে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এসব অপরাধের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার আইনি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। এ সময় আন্তর্জাতিক পরিসরে মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অস্থায়ী বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন নাভি পিল্লাই।

দীর্ঘ কর্মজীবনে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় তাঁর অবদান বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার সেই অবদানেরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *