
মানবদেহের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল অঙ্গ ফুসফুস। আমাদের শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়ার মূল কাজটি করে এই অঙ্গটি। তবে বর্তমান সময়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ফুসফুসের বিভিন্ন জটিলতা ও রোগের বিস্তার। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশগত দূষণ ও অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে মানুষ প্রতিনিয়ত ফুসফুসজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে।
ফুসফুসের বর্তমান অবস্থা ও প্রধান হুমকি:
সাম্প্রতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেখা গেছে, শহরের বায়ুদূষণ এবং অতিরিক্ত ধূমপান ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ। বিশেষ করে শীতে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় বাতাসে ক্ষতিকর কণার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অ্যাজমা, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) এবং ফুসফুসের সংক্রমণের রোগীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। পরোক্ষ ধূমপানও (প্যাসিভ স্মোকিং) অধূমপায়ীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
লক্ষণ যা অবহেলা করা উচিত নয়:
ফুসফুসের কোনো সমস্যা তৈরি হলে শরীর কিছু আগাম সংকেত দেয়। চিকিৎসকরা জানান, যদি কারও ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
-
দীর্ঘদিনের দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা কাশির সাথে রক্ত পড়া।
-
বুক ভারী হয়ে আসা এবং স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া।
-
একটু হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রমেই মারাত্মক ক্লান্তি অনুভব করা।
-
বুকে পিঠে বা ঘন ঘন ফুসফুসে ইনফেকশন হওয়া।
ফুসফুস ভালো রাখার উপায়:
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ফুসফুসকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও কার্যকর রাখা সম্ভব:
১. ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান ও তামাকজাতীয় দ্রব্য সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে।
২. দূষণ থেকে সুরক্ষা: ধুলোবালি বা বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে চলাচলের সময় উন্নত মানের মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
৩. নিয়মিত ব্যায়াম: প্রাণায়াম, সাঁতার বা শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম (Breathing Exercises) ফুসফুসের অক্সিজেন গ্রহণ ক্ষমতা বাড়ায়।
৪. সুষম খাদ্য গ্রহণ: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফলমূল, শাকসবজি এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৫. টিকা গ্রহণ: ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার মতো রোগের টিকা গ্রহণ করলে ফুসফুসে ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি অনেকাংশে কমে।
ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে প্রাথমিক অবস্থাতেই সচেতন হওয়া জরুরি। লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং বায়ুদূষণ রোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।