অবশেষে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপে সরকারি চাকরী পেলেন ভ‚মিহীন তাছলিমা!

              নিজস্ব প্রতিনিধি\ অবশেষে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে কুমিল্লার লালমাইয়ে ভূমিহীন তাছলিমা আক্তার সরকারি চাকরির নিয়োগ পেল। জমির খতিয়ান না থাকায় মন্ত্রণালয় থেকে তার নিয়োগ আটকে দেয়া হয়েছিল।

              বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ার খবর পেয়ে এগিয়ে আসেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

              খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লালমাই উপজেলার ভূলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের পরতী গ্রামের অটোরিকশাচালক অহিদুর রহমানের মেয়ে তাছলিমা আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পান। তার বাবার নামে জমির খাজনা-খতিয়ান না থাকায় মন্ত্রণালয় তার নিয়োগপত্র আটকে দেয়। এতে অনিশ্চয়তায় পড়েন চাকরি প্রত্যাশী তাছলিমা।

              তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। ৬ কন্যা সন্তানের বাবা অহিদুর রহমান অটোরিকশা চালিয়ে সংসার পরিচালনা করেন। মেয়ের চাকরিতে নিয়োগের সব শর্ত পূরণ হলেও ভূমিহীনতার কারণে জমির খাজনা-খতিয়ান না থাকায় নিয়োগ বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়ে পরিবারটি।

              এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নজরে আসে। পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে তাছলিমা আক্তার ও তার পরিবারের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেয়া হয়।

              লালমাই উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহŸায়ক ফরহাদ উদ্দিন ও কাজী জাফর আহমেদ রাজন বলেন, তাছলিমা আমাদের গ্রামের মেয়ে। ভূমিহীন হওয়ায় তার চাকরি বাতিলের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।

              তাছলিমা আক্তার বলেন, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পাশ করলেও বাবার নামে জমির খাজনা-খতিয়ান না থাকায় আমার নিয়োগপত্র আটকে যায়। জেলা পর্যায় থেকে সব ঠিকঠাক থাকলেও মন্ত্রণালয় নিয়োগপত্রটি বাতিল করে দেয়।

              তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়ায় চাকরিটা আমার খুব দরকার ছিল। বাবা অনেক কষ্ট করে আমাকে কলেজ পর্যন্ত পড়িয়েছেন। কিন্তু ভূমিহীন হওয়ায় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে সব শর্ত পূরণ করেও নিয়োগ দেয়া হয়নি। এখন মনিরুল হক চৌধুরীর সহযোগিতায় নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।

              অহিদুর রহমান বলেন, আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাছলিমার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল দীর্ঘদিনের। নিয়োগপত্র পাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে গেছে। তিনি মেয়ের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত হওয়ায় এমপি মনিরুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *