
ষ্টাফ রিপোর্টার\ আগামী বছরের জানুয়ারিতে তিন ধাপে দেশের প্রায় ২ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম ধাপের নির্বাচন হবে। এরপরে তৃতীয় ও শেষ সপ্তাহে দুই ধাপের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের তারিখ হিসেবে ৭ই জানুয়ারি চিন্তায় রেখেছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নভেম্বরের মাঝামাঝিতে তফসিল ঘোষণা হবে প্রথম ধাপের। এরপরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ধাপের তফসিল হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইউপি নির্বাচন শুরু করতে পারব। রমজানের আগে তিন ধাপে ভোট নিতে পারব। এই সময়ে প্রায় ২ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণের প্রস্ততি নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যে তারিখে ভোট গ্রহণ হবে তা থেকে ৪০-৪৫ দিন আগেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরীক্ষা রয়েছে, ছাত্রছাত্রীরা যাতে সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারে। সেজন্য আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। আরো যেসব প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন সেটা করব।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্টদের মতামতের পরেই নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ইসি। প্রথমে পরীক্ষার ফাঁকে ১২ই নভেম্বরেই ইউপি নির্বাচন শুরু করার সম্ভাব্য তারিখও জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। শেষ ধাপের ভোট করার কথা ছিল ২৭শে মে। কিন্তু নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষাসহ কয়েকটি পরীক্ষাসূচির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয় আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে; সেক্ষেত্রে ৬ই জুনের মধ্যে ভোট শেষ করার বিষয়ে ঐকমত্য আসে বৈঠকে। এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসি ফেব্রæয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন করে। মে মাসে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট শেষ করে। আগস্টে সম্পন্ন হয় রাষ্ট্র্রপতি নির্বাচন। এবার স্থানীয় নির্বাচনের পাল্ল। সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন, ৩৩০ পৌরসভা, ৫ শতাধিক উপজেলা, ৬১ জেলা ও ১৩ সিটি করপোরেশনের মধ্যে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের ধাপে ধাপে ভোট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ এ সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয় ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, কিছু করণিক ভুল, প্রতীকের তালিকা থেকে দলীয় প্রতীক বাদ, স্বতন্ত্রদের প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য প্রতীক সংরক্ষণ, মনোনয়নপত্রের ফরম, হলফনামার সংযুক্তিসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আরো কিছু সংশোধন আনা হয়েছে।
এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসি ইউপি পদে প্রার্থীদের জামানত আগের তুলনায় পাঁচ গুণ ও ভোটের ব্যয় দুই গুণ বাড়িয়েছে এবার। সেই সঙ্গে প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তে ১৫% ভোট না পাওয়া, মনোনয়নপত্রে চেয়ারম্যানের জন্য ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ ও আয়কর রিটার্নের কপি যুক্ত করা, ভোটে অনিয়মে ব্যবস্থা নিতে ইসির ক্ষমতা বাড়ানো, সংসদের মতো করে ইউপি ভোটে হলফনামায় তথ্য স্পষ্টীকরণ, নির্দলীয় ভোটের প্রতীক সংরক্ষণসহ একগুচ্ছ সংশোধনী আনা হয়েছে। গত ১৭ই সেপ্টেম্বর জারি করা ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ নির্বাচন বিধিমালার ২০২৬ সালের এসব সংশোধনী বিদ্যমান বিধিমালায় যুক্ত হলো। দীর্ঘ এক দশক পর নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে ইউনিয়ন পরিষদে। চেয়ারম্যান পদে আগে নিবন্ধিত দলের প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য মার্কা বরাদ্দ ছিল; এবার চেয়ারম্যান পদে ২০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে সংশোধিত বিধিমালায়। এছাড়া, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ইসি সচিব জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো পদক্ষেপ নেবে কমিশন। জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য রেফারেন্স হিসেবে নিয়ে বাস্তবতা বুঝে ভোট আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য যেখানে যে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, তাই নেয়া হবে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ ইউনেস্কোর সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন ভবনে এসব কথা বলেন। সচিব বলেন, ১৭ই সেপ্টেম্বর একটা আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন ধরনের মতামত দেয়া হয়েছে। সময়সূচির ব্যাপারেও আলোচনা করা হয়েছে এবং তারা বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম যেটা বলেছেন, জানুয়ারি থেকে জুনের কথা বলেছেন, ভালো একটা রেফারেন্স তো পাওয়াই গেল। সেভাবে আমরা বাকি কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাব। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনীর মোতায়েনের ব্যাপারটা, এটা তো ভবিষ্যতের ব্যাপার। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। ভোটের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা আছে, ভোটের জন্য উপকরণ আছে, ভোটকেন্দ্রও আছে। এখন আমাদেরকে স্থানীয় বাস্তবতাগুলোকে বুঝে নিতে হবে। স্থানীয় বাস্তবতাগুলো কী? এসএসসি পরীক্ষা, রোজা, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, বিভিন্ন জাতীয় প্রোগ্রাম থাকে সেগুলো চিন্তায় রেখেই আমরা একটা সুষ্ঠু সমাধানে আসব।