প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে গড়িমসি প্রিপেইড মিটার রিচার্জে গ্রাহকের ভোগান্তি

            ষ্টাফ রিপোর্টার\ দেশের সাধারণ গ্রাহকের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ বা মিটার ভাড়া সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের নির্দেশ আজো বাস্তবায়ন হয়নি। চলতি মাসের শুরুতেই গ্রাহক পর্যায়ে বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তিতে পড়েন প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা। মিটারে ১ হাজার টাকা রিচার্জ করতে গেলেই কেটে নেয়া হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। আবার মিটার রিচাজ করতে গিয়ে ২২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর প্রবেশ করাতে হচ্ছে অনেককেই। চাহিদার চেয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। কিন্তু জ্বালানিসংকটে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না এই সক্ষমতা। গ্যাস না পেয়ে চালানো হচ্ছে চড়া দামের তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে শহরের মানুষ দিনরাত বিদ্যুৎ পেলেও দিনে গড়ে ৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে ভুগছে গ্রামের মানুষ। বিদ্যুৎ সঞ্চালন, উৎপাদন ও বিতরণ কোম্পানির তথ্য এবং কয়েকটি এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে বিদ্যুৎ খাতে এমন পরিস্থিতির কথা জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছেন বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) গ্রাহকেরা। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকঠাক পাচ্ছে না বলেই এটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ সংস্থাটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা।

            দেশে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করে মোট ৬টি কোম্পানি। ৪ কোটি ২২ লাখ বিদ্যু গ্রাহকের মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লাখ গ্রাহক আরইবির। দিনে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫৮ শতাংশ ব্যবহার করে তারা। সরবরাহ ঘাটতি থাকছে ৫০০ থেকে ৮৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত। এর ফলে প্রতিদিন ৩-৫ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

            সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সালে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা চালুর পর থেকে যতবার বিদ্যুতের ট্যারিফ পরিবর্তন হয়েছে, প্রায় প্রতিবারই অফলাইন মিটার ব্যবহারকারীদের একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার সমাধান করতে হলে অফলাইন প্রিপেইড মিটারগুলো ধাপে ধাপে পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক স্মার্ট মিটার স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি যেসব স্মার্ট মিটার কারিগরি ত্রুটির কারণে অনলাইনে সংযুক্ত হতে পারছে না, সেগুলোর জন্য আরো কার্যকর সফটওয়্যার ও আপডেটিং ব্যবস্থা বা নতুন প্রযুক্তিগত সমাধান উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *