লংমার্চে বাধা এলে সরকার জনরোষের মুখে পড়তে পারে: গোলাম পরওয়ার

চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচিতে সরকার বা প্রশাসনের কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি করলে সরকার আরও জনআস্থা হারাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, লংমার্চে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করা হলে সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে কর্মসূচির প্রস্তুতির সর্বশেষ তথ্য জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে এই লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গোলাম পরওয়ার জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে। লংমার্চও হবে একইভাবে শান্তিপূর্ণ।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই কর্মসূচির লক্ষ্য সরকার উৎখাত নয়। বরং দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই লংমার্চ আয়োজন করা হচ্ছে।

সরকারের প্রতি প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, কর্মসূচি যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা থাকা উচিত। এতে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাও বজায় থাকবে।

যেসব স্থানে পথসভা

লংমার্চের সময়সূচি তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার জানান, শনিবার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঢাকার শাপলা চত্বরে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে।

দিনের শেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে। যানজট বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি না হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে লংমার্চের গাড়িবহর সেখানে পৌঁছাতে পারে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে পথসভাগুলো সংক্ষিপ্ত রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রতিটি স্থানে ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না। স্থানীয় শাখাগুলো পথসভার আয়োজন করবে এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে অংশ নেবেন। গাড়িবহরে থাকা নেতা-কর্মীদের সবাই পথসভায় নামবেন না; নির্ধারিত বক্তারাই বক্তব্য দেবেন।

গাড়িবহরে পথে নতুন গাড়ি যুক্ত হতে পারে বলেও জানান গোলাম পরওয়ার। তবে এসব গাড়ি বহরের শেষ দিকে রাখা হবে।

নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি

লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ডেলিগেট কার্ড এবং বাসে নির্দিষ্ট স্টিকার রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম, সাংস্কৃতিক বিভাগ ও আইটি বিভাগের গাড়ি কীভাবে বহরের সঙ্গে চলবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধানে মাত্র ছয় মাস যথেষ্ট সময় না হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের গুরুত্ব রয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারকে সংসদে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর দাবি, অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও নৃশংসতা, লুটপাট ও দলীয়করণ আরও কমিয়ে আনার সুযোগ ছিল।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চ ঘিরে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তাঁরা করছেন না। ১১ দলের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের কারণে কোনো দুষ্কৃতকারী হামলার সাহস পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে কোনো ধরনের হামলা বা বিশৃঙ্খলা হলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে বলে সতর্ক করেন পাটওয়ারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *