ব্রাহ্মণপাড়ায় এক বছরে ২৩৩ জনের আত্মহত্যা চেষ্টা

              নিজস্ব প্রতিনিধি\ সীমান্তবর্তী উপজেলা ব্রাহ্মণপাড়ায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা। গত এক বছরে (আগস্ট ২০২৫ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিষপান করে অন্তত ২৩৩ জন নারী-পুরুষ আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বড় একটি অংশই কিশোর-কিশোরী এবং গৃহবধূ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মো. মাহমুদ হাসান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, বাস্তবে এ সংখ্যা বেসরকারী হিসাবে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি হতে পারে।

              স্থানীয় বিশ্লেষক ও আইনজীবীরা বলছেন, সীমান্তে কীটনাশকের সহজলভ্যতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং পারিবারিক টানাপোড়েনই এই প্রবণতার প্রধান কারণ। কুমিল্লা জজকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, এনজিও বা বিভিন্ন সংস্থাসমূহের ঋণের কিস্তি শোধ করতে না পেরে অনেক নারী ক্ষোভে-হতাশায় বিষপানের পথ বেছে নেন। এ ছাড়া কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে প্রেমঘটিত টানাপোড়েন, মোবাইল গেমসে আসক্তি, ডিপ্রেশন এবং মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পারার মতো সামাজিক ব্যাধিও কাজ করছে। কৃষি বিভাগের মতে, বিষাক্ত কীটনাশকের অবাধ বিক্রি রোধে কড়াকড়ি আরোপ করা জরুরি। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন জানান, নিবন্ধিত ডিলারদের বিষাক্ত কীটনাশক বিক্রির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সাধারণ গাছের ওষুধে সাধারণত মানুষের মৃত্যু হয় না, তবে যেসব কীটনাশক প্রাণঘাতী, সেগুলো বিক্রিতে বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

              পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অস্থিরতাকে মূল কারণ হিসেবে দেখছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, মূলত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারিবারিক বিবাদ, পরকীয়া ও মানসিক ভাঙন মানুষকে এমন চরম সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়। পাশাপাশি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ও মাদকাসক্ত কিশোরদের মধ্যেও এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

              উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মনিরুল ইসলাম জানান, বিষপানের শিকার অধিকাংশ রোগীই হাসপাতালে দেরিতে পৌঁছান, যা চিকিৎসাকে জটিল করে তোলে। তাঁদের মতে, কেবল চিকিৎসার মাধ্যমে এটি রোধ করা সম্ভব নয়; বরং কীটনাশক বিক্রি নিয়ন্ত্রণ, এনজিও ঋণের চাপ হ্রাস ও পরিবারভিত্তিক সচেতনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *