
ম্যাবস॥ বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ আমেরিকায় ভ্রমণ, পড়াশোনা ও কাজের জন্য ভিসার আবেদন করেন। আমেরিকার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় একটু জটিল হলেও সঠিক নিয়ম জানলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২০২৬ সালে ভিসা আবেদনের পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইন ভিত্তিক করা হয়েছে।
আমেরিকার ভিসার প্রকারভেদ:
আমেরিকার ভিসা মূলত দুই ধরনের। আবেদনের আগে আপনাকে সঠিক ভিসা ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে।
১. নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (অস্থায়ী): যারা সাময়িক সময়ের জন্য আমেরিকা যেতে চান তাদের জন্য।
B1/B2 ভিসা: ব্যবসা, পর্যটন ও চিকিৎসার জন্য। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি এই ভিসার আবেদন হয়।
F1 ভিসা: আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা।
H1B ভিসা: চাকরি বা কর্মসংস্থানের জন্য।
J1 ভিসা: এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের জন্য।
১. ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (স্থায়ী): যারা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান, যেমন ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ বা ডাইভারসিটি ভিসা (DV Lottery)।
আমেরিকার ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
আমেরিকার ভিসা আবেদনের জন্য কিছু বাধ্যতামূলক ডকুমেন্টস আবশ্যক হয়ে থাকবে। কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে ভিসা বাতিল হতে পারে।
মেয়াদ সহ বৈধ পাসপোর্ট:
(আমেরিকায় থাকার মেয়াদের পরেও অন্তত ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে)
DS-160 ফরমের কনফার্মেশন পেজ
ভিসা ফি জমার রশিদ (MRV Fee)
১ কপি ২x২ ইঞ্চি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি (সাম্প্রতিক ৬ মাসের মধ্যে তোলা)
জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন
ব্যাংক স্টেটমেন্ট (শেষ ৬ মাসের), ট্রেড লাইসেন্স / চাকরির প্রমাণপত্র
F1 ভিসার জন্য I-20, SEVIS ফি জমার রশিদ
পূর্বে আমেরিকা ভ্রমণ করে থাকলে পুরনো পাসপোর্ট:
DS-160 ফরম পূরণ – সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
আমেরিকার ভিসা আবেদনের প্রধান ধাপ হলো DS-160 ফরম পূরণ। https://ceac.state.gov/genniv/ এই ওয়েবসাইটে গিয়ে ফরমটি পূরণ করতে হয়।
ফরম পূরণের সময় সতর্কতা: আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট তথ্য, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আমেরিকায় পরিচিত কেউ থাকলে তার তথ্য নির্ভুলভাবে দিতে হবে। কোনো তথ্য ভুল দিলে ইন্টারভিউতে সমস্যা হবে। ফরম পূরণ শেষে যে Confirmation Page টি পাবেন, তাতে থাকা বারকোড নম্বরটি ইন্টারভিউয়ের সময় লাগবে।
আমেরিকার ভিসা ফি কত ২০২৬ সালে?
২০২৩ সাল থেকে ভিসা ফি বাড়ানো হয়েছে, যা ২০২৬ সালেও বহাল রয়েছে।
B1/B2, F, J, M ভিসা: ১৮৫ ডলার (প্রায় ২০,৫০০ টাকা)
H, L, O, P, Q, R ভিসা (ওয়ার্ক ভিসা): ২০৫ ডলার
E ভিসা (ব্যবসায়ী): ৩১৫ ডলার।
এই ফি অফেরতযোগ্য। ভিসা না পেলেও এই টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে EBL বা অন্য অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে এই ফি জমা দিতে হয়।
ধাপে ধাপে আমেরিকার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া:
ধাপ ১: ceac.state.gov থেকে DS-160 পূরণ করে কনফার্মেশন পেজ প্রিন্ট করুন।
ধাপ ২: www.ustraveldocs.com/bd ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রোফাইল তৈরি করুন এবং ভিসা ফি জমা দিন।
ধাপ ৩: ফি জমা দেওয়ার ২৪ ঘন্টা পর একই ওয়েবসাইটে লগইন করে ইন্টারভিউয়ের তারিখ (Appointment) নিন।
ধাপ ৪: নির্ধারিত তারিখে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে (বারিধারা) সকল মূল কাগজপত্র সহ ইন্টারভিউয়ের জন্য উপস্থিত হন।
ধাপ ৫: ইন্টারভিউতে পাস করলে ৩-৫ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট সহ ভিসা ডেলিভারি পাবেন।
ভিসা ইন্টারভিউতে সফল হওয়ার টিপস:
আমেরিকার ভিসা আবেদনের সিদ্ধান্তের ৯০% নির্ভর করে ইন্টারভিউয়ের উপর। কনস্যুলার অফিসার মূলত দেখতে চান আপনি আমেরিকা থেকে ফিরে আসবেন কিনা।
ইন্টারভিউতে আত্মবিশ্বাসের সাথে ইংরেজিতে উত্তর দিন।
মিথ্যা তথ্য বা ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেবেন না।
দেশে আপনার শক্তিশালী বন্ধন (চাকরি, ব্যবসা, পরিবার, সম্পত্তি) প্রমাণ করুন।
কেন আমেরিকা যেতে চান তার সুনির্দিষ্ট কারণ বলুন।
অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে চাইবেন না, যা জিজ্ঞাসা করা হয় শুধু তার উত্তর দিন।
অনেকের ভিসা রিজেক্ট হওয়ার প্রধান কারণ হলো 214(b) ধারা, অর্থাৎ অফিসারকে বোঝাতে ব্যর্থ হওয়া যে আপনি দেশে ফিরে আসবেন।
সতর্কতা: কোনো দালাল বা এজেন্সি আপনাকে ভিসার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। মার্কিন দূতাবাসের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করলে আপনি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হতে পারেন।
এই গাইডটি মেনে আমেরিকার ভিসা আবেদন করলে আপনার ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়বে।
ভিসা সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেট পেতে নিয়মিত ustraveldocs.com/bd ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
Courtesy: w w 2 USA Archives