
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রায় ৮৬ একর জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে বঙ্গভবনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হলো।
তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চশিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়নের জন্য দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘সংঘাত নয়, সহনশীলতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে’
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে সংঘাতের পরিবর্তে সহনশীলতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য পারস্পরিক সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতি ও সফলতা কামনা করে মোনাজাত ও দোয়া করা হয়।
রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণে গুণগত মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী, ইউজিসি চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্টজনেরা
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ এবং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইসরাফিল।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট নাগরিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।