
নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে নির্মাণাধীন নান্দনিক হাওরা আর্চ গার্ডার সেতুর কাজ ৬ বছরেও শেষ হয়নি। মেয়াদান্তে কাজ শেষ করতে না পেরে সেতুর অসমাপ্ত কাজ রেখেই চলে গেছেন ঠিকাদার। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ওই এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরের ১নং বাইশগাঁও ইউনিয়নের চড্ডা এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুটির দু’প্রান্তে দু’টি গার্ডারের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এসব গার্ডারের উপরিভাগে বেরিয়ে থাকা রডে মরিচা ধরে অকেজো হয়ে পড়ছে। সেতুটি নির্মাণের শুরু থেকেই বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় যাতায়াতে নিজ খরচে বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেও বর্ষাকালে সেটিও পানিতে ডুবে যাওয়ার কথা জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে ওই এলাকার মানুষের জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। কবে নাগাদ সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হবে, এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা শহর (নন-মিউনিসপ্যাল) মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা সদর থেকে হাওরা ও চড্ডা সড়ক এলাকায় নদনা খালের ওপর ২০২০ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদার। দরপত্রের চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২ দফা সময় বাড়িয়েও সেতুটির অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি। মেয়াদান্তে কাজটি শেষ করতে না পারায় ২০২৩ সালে সেতুটির কার্যাদেশ বাতিল করা হয় এবং পরে কয়েকদফা পুনঃদরপত্র আহŸান করার কথা জানান কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা মোঃ শরীফ হোসেন, মাওলানা সামছুল আলম, মো. সেলিমসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর প্রথম ২ বছরে দু’টি গার্ডারের কাজ শেষ করার পর কর্মস্থলে আর ঠিকাদারের দেখা মেলেনি।
তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে আমাদের বিপাকে ফেলা হয়েছে। সেতুটির কচ্ছপগতির নির্মাণ কাজের জন্য চড্ডা, হাওরা, দিশাবন্দ, নোয়াপাড়া, ডাবুরিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিশেষ করে বোরো মওসুমে দিশাবন্দ, নোয়াপাড়া মাঠের ধান পারাপারে চরম বিপাকে পড়তে হয় কৃষকদের।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন জানান, ব্রীজটি নতুন করে টেন্ডার হয়েছে; কাজ প্রক্রিয়াধীন। তবে কোন ঠিকাদার কাজটি পেয়েছে এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। -সৌজন্য কালবেলা