কুমিল্লা জেলায় ৭ মাসে ৮৪টি হত্যাকান্ড

              ষ্টাফ রিপোর্টার\ কুমিল্লায় একের পর এক খুন, চুরি, ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইয়ের দৌরাত্ম্য নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

              জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়  উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৮৪টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৪টি, ফেব্রæয়ারিতে ১২টি, মার্চে ৯টি, এপ্রিলে ১৬টি, মে মাসে ৭টি, জুনে ১০টি এবং জুলাইয়ে ১০টি হত্যাকানেডর ঘটনা ঘটে। একই সময়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২২টি।

              এছাড়া, গত ৬ মাসে কুমিল্লায় ৩৩৩টি চুরি, ৩৫টি ডাকাতি ও ১৪টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব অপরাধের পাশাপাশি ছিনতাই, মাদক কারবার এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা ও সচেতনমহল।

              নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকলেও তাদের তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্কুল-কলেজকেন্দ্রিক এলাকাতেও কিশোর গ্যাংয়ের অবস্থান রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

              আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে মাদক, বেকারত্ব, কিশোরদের বিপথগামিতা এবং সামাজিক অবক্ষয়কে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রæত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

              কুমিল­া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বয়স নির্ধারণ নিয়ে অনেক সময় আইনি জটিলতা দেখা দেয়। স্কুলের সার্টিফিকেটে প্রকৃত বয়সের পরিবর্তে বেশি বয়স দেখানো কিংবা বয়স গোপন করার প্রবণতাও রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

              কুমিল্লা জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে। গত মাসে ১৯২ জন ছিনতাইকারীকে আটক করার তথ্যও উঠে এসেছে।

              সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদেরও কিশোরদের বিপথগামিতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দ্রæত বিচার নিশ্চিত করা গেলে কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। এছাড়া যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর মধ্যে ছিনতাই চুরির ঘটনা অতিরিক্ত বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বদেশ রেস্তোরাঁ এন্ড পাটি সেন্টার