
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়মিত মাপা জরুরি। এত দিন এ কাজের জন্য আঙুলে সুচ ফুটিয়ে রক্তের নমুনা নেওয়াই ছিল সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এখন সিজিএম (Continuous Glucose Monitoring) বা ধারাবাহিক গ্লুকোজ মনিটরিং প্রযুক্তি সেই চিত্র বদলে দিচ্ছে।
সিজিএম ব্যবস্থায় বারবার আঙুলে সুচ ফুটিয়ে রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। শরীরে লাগানো একটি ক্ষুদ্র সেন্সরের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিরতিতে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা যায়। সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য মোবাইল ফোন বা নির্দিষ্ট রিসিভারে দেখা যায়।
কীভাবে কাজ করে সিজিএম?
সিজিএমের সেন্সর সাধারণত শরীরের ত্বকের নিচে অল্প গভীরে স্থাপন করা হয়। সেন্সরের ক্ষুদ্র অংশ শরীরের কোষের চারপাশের তরলে থাকা গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ করে। এরপর সেন্সর সেই তথ্য একটি রিডার বা স্মার্টফোন অ্যাপে পাঠায়।
ফলে ব্যবহারকারী শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের গ্লুকোজের মাত্রা নয়, বরং দিনের বিভিন্ন সময়ে গ্লুকোজ কীভাবে ওঠানামা করছে, সেটিও দেখতে পারেন।
শুধু সংখ্যা নয়, দেখায় গ্লুকোজের ওঠানামা
প্রচলিত গ্লুকোমিটারে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়ের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা জানা যায়। সিজিএমের বড় সুবিধা হলো এটি গ্লুকোজের ধারাবাহিক প্রবণতা দেখাতে পারে।
গ্লুকোজ বাড়ছে নাকি কমছে, কত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে—এসব তথ্য অনেক সিজিএম ব্যবস্থায় গ্রাফ বা তীরচিহ্নের মাধ্যমে দেখা যায়। কিছু ডিভাইস গ্লুকোজ খুব বেশি বেড়ে গেলে বা কমে গেলে সতর্কবার্তাও দিতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় গ্লুকোজের মাত্রা কখন বাড়ছে বা কমছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। খাবার, ব্যায়াম, ওষুধ, ইনসুলিন, ঘুম ও দৈনন্দিন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গ্লুকোজের পরিবর্তনের সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক তথ্য সহায়ক হতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের ঘন ঘন গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হয়, তাঁদের জন্য বারবার আঙুলে সুচ ফোটানোর প্রয়োজন কমানো সিজিএমের অন্যতম সুবিধা।
তবে সিজিএম মানেই পুরোপুরি সুচবিহীন নয়
‘সুচ ছাড়াই গ্লুকোজ মাপা’ কথাটি শুনে মনে হতে পারে শরীরে কোনো ধরনের সেন্সর লাগানোর প্রয়োজন নেই। বাস্তবে অধিকাংশ সিজিএম সেন্সর ত্বকের নিচে ক্ষুদ্র একটি সেন্সর স্থাপন করে কাজ করে। অর্থাৎ আঙুলে বারবার রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন কমলেও সেন্সর স্থাপনের সময় ত্বকে ক্ষুদ্র প্রবেশ ঘটতে পারে।
এ ছাড়া ডিভাইসভেদে ব্যবহারকাল, নির্ভুলতা, সেন্সর পরিবর্তনের সময় ও খরচ ভিন্ন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রচলিত গ্লুকোমিটার দিয়ে ফল যাচাই করার প্রয়োজনও হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
সিজিএম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক একটি প্রযুক্তি, তবে এটি নিজে কোনো চিকিৎসা নয়। কার জন্য কোন ধরনের গ্লুকোজ মনিটরিং পদ্ধতি উপযোগী, তা ব্যক্তির বয়স, ডায়াবেটিসের ধরন, ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহারের ধরন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক নির্ধারণ করতে পারেন।
প্রযুক্তির অগ্রগতিতে তাই ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা এখন শুধু ‘একবার গ্লুকোজ মাপা’র মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং নির্দিষ্ট সময়জুড়ে গ্লুকোজের ওঠানামার পূর্ণ চিত্র বোঝার দিকেও এগোচ্ছে সিজিএম।