
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি ও সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকেই একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সূত্রগুলো বলছে, সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা এখন অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে।
আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি ও একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে।
দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এসব বিবেচনায় সাম্প্রতিক সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে।
এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে মত দিয়েছেন। একই ধরনের মূল্যায়ন করেছেন ব্র্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহও।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে এখনো দলীয়ভাবে কোনো নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা ও জল্পনা অব্যাহত থাকবে।