
ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
পদত্যাগের ঘোষণায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, শুরু থেকেই তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন এবং কখনো পরিস্থিতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি জানান, দেশের জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় না ফেলা এবং তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করার স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছিল। আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি জানানো হয়েছিল—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।
শুক্রবার সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা না করা এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনের পক্ষ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। যদিও সরকারি সূত্রে আগে দাবি করা হয়েছিল, সরকার পদত্যাগের দাবি মেনে নেবে না। তবে নির্ধারিত তৃতীয় দফা বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।