
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সবাই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রোববার রাতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমান ওই শ্রমিকেরা। রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় তাঁরা কর্মরত ছিলেন। রোববার দুপুরে হঠাৎ কারখানাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে তাঁরা প্রাণ হারান।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—বিশা গ্রামের সাগর (৩১), মজিদুল (৩৪), উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও হাসিবুল হাসান (২৭), গন্ডগোহালি গ্রামের মহুন প্রামাণিক (৪২), সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন (৩০), কলি প্রামাণিক (৩৫) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল (৩৮)।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১০ জনের মধ্যে আত্রাই উপজেলার সাতজন প্রবাসী শ্রমিক রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।
স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া
সৌদি আরবে কর্মরত স্বজনদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা স্বজন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছেন।
মরদেহ দেশে ফেরাতে উদ্যোগ
সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এক শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কর্মস্থলে তাঁদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।