যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসায় থাকার নিয়মে বড় কড়াকড়ি, গ্রেস পিরিয়ড কমল

পাসপোর্টে স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ যতদিন উল্লেখ থাকে, ঠিক ততদিনই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকা যায়—সাধারণ এই ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। কারণ ভিসা মূলত দেশটিতে প্রবেশের একটি অনুমতিপত্র মাত্র। সেখানে প্রবেশের পর একজন শিক্ষার্থী কতদিন অবস্থান করতে পারবেন, তা পুরোপুরি ঠিক করে তাঁর অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) স্ট্যাটাস। আর এই থাকার নিয়মে এবার এক যুগান্তকারী ও কঠোর পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (D/S) প্রথা বাতিল করে নতুন এই নিয়ম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের নীতিমালায় বড় ধরণের প্রভাব পড়বে।

এতদিন কেমন ছিল এই নিয়ম?

আগের নিয়ম অনুযায়ী, এফ-১ (F-1) ক্যাটাগরির স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সময় কোনো সুনির্দিষ্ট শেষ তারিখ পেতেন না। ইলেকট্রনিক আই-৯৪ (I-94) রেকর্ডে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ লেখা থাকত। এর মানে হলো, অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত থেকে অভিবাসন আইন মেনে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল সেখানে থাকা যেত। কোনো কোর্স সময়মতো শেষ না হলে তা বিশ্ববিদ্যালয় ও সেভিস (SEVIS)-এর মাধ্যমেই বাড়ানো যেত।

নতুন নিয়মে কী কী পরিবর্তন এলো?

১. সময়সীমা নির্দিষ্টকরণ: নতুন আইন অনুসারে, শিক্ষার্থীরা আর অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার সুযোগ পাবেন না। এখন থেকে তাঁরা তাঁদের একাডেমিক কোর্সের সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ৪ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি পাবেন।

২. ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণ: কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করতে যদি ৪ বছরের বেশি সময় লাগে, তবে সেই মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষমতা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে থাকবে না। এজন্য শিক্ষার্থীকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (USCIS) কাছে ‘এক্সটেনশন অব স্টে’-এর জন্য আবেদন করতে হবে।

৩. গ্রেস পিরিয়ড অর্ধেকে হ্রাস: আগে কোর্স সম্পন্ন করার পর দেশ ত্যাগ করা, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ক্রেডিট ট্রান্সফার করা কিংবা ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার্থীরা ৬০ দিন সময় পেতেন। নতুন নিয়মে এই গ্রেস পিরিয়ড কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন করা হয়েছে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগের নিয়মের সুযোগ নিয়ে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী একের পর এক নতুন কোর্সে ভর্তি হয়ে বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতেন। নতুন এই নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক ব্যবস্থার ফলে জালিয়াতি প্রতিরোধ করা এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর শিক্ষার্থীদের অবস্থান সরকারিভাবে পর্যালোচনা করা অনেক সহজ হবে।

তবে আশার কথা হলো, নতুন এই নিয়মের কারণে এফ-১ ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদনের প্রক্রিয়া কিংবা পাসপোর্টে স্ট্যাম্প করা ভিসার বৈধতার মেয়াদে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *