
নেপালের রাসুয়া এলাকায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গভীর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া দুই শ্রমিককে দীর্ঘ নয় দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। টানা কয়েক দিনের অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার সকালে তাদের নিরাপদে সুড়ঙ্গের বাইরে নিয়ে আসেন উদ্ধারকারীরা।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহধসের ফলে কাদা, পাথর ও বরফের বিশাল স্রোত নেমে আসে। এতে ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা আটকা পড়েন।
ঘটনার পর থেকেই তাদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখের বড় একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মাটি, পাথর ও অন্যান্য বাধা সরিয়ে এগোতে হয়।
শুক্রবার ভোরে উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা দেয়। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ক্ষীণ সাড়া পাওয়ার পর উদ্ধারকারীরা ধারণা করেন, আটকে পড়া শ্রমিকরা তখনও জীবিত থাকতে পারেন। ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করতে উদ্ধারকারীরা চিৎকার করে জানান, তারা উদ্ধার করতে এসেছেন।
এরপর সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে নেপালি ভাষায় মৃদু স্বরে ‘হুঞ্চা’—অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ বা ‘ঠিক আছে’—জাতীয় উত্তর শোনা যায় বলে উদ্ধারকারীরা জানান।
এ সময় উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের মুখে জমে থাকা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলেছিল। পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠলে দ্রুত উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়।
শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন।
উদ্ধারের পর একজন শ্রমিককে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। তখন তাকে দুই হাত তুলে প্রার্থনার ভঙ্গিতে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ নয় দিন মৃত্যুর আশঙ্কার মধ্যে আটকে থাকার পর তাদের জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনায় যখন উদ্ধারকাজ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তখন এই দুই শ্রমিকের জীবিত ফিরে আসা স্বজন ও উদ্ধারকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।