
ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘পিকঅ্যাক্স’ ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় শিগগির হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতকে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে ট্রাম্প একে ‘সামরিক সংঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সংঘাতটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কোনো বিষয় নয় এবং ওয়াশিংটন বিরতি দিয়ে দিয়ে ইরানে হামলা চালাচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি ইরানের রাডারব্যবস্থায় হামলার আগে কয়েক দিন সেখানে সক্রিয় কোনো লড়াই হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন অংশে হামলা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ইরানি রাডার, উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মাইন অপসারণকারী জাহাজ ব্যবহার করে জলপথটির মাইনও সরানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
‘পিকঅ্যাক্স’ কেন গুরুত্বপূর্ণ
পিকঅ্যাক্স ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত গভীর ভূগর্ভস্থ একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থাপনা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ের কয়েক শ মিটার পুরু গ্রানাইট স্তরের নিচে এর দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে গোপনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে। তবে ইরানের দাবি, স্থাপনাটি উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি ও সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত হয়।
গভীর ভূগর্ভে অবস্থানের কারণে পিকঅ্যাক্সে হামলা চালিয়ে সেটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন বলে মনে করা হয়। এ কারণেই স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যগুলোর একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পিকঅ্যাক্সে হামলার বিষয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ তাঁর দাবি, পিকঅ্যাক্সসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে কারা চলাফেরা করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের দাবি
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রেখেছে এবং এর ফলে ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য আরও নিরাপদ হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না—এটাই তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অর্জন।
চলমান সংঘাত কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করেছে।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরান থেকে সরে গেলেও দেশটির অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে তেহরানের প্রায় ২৫ বছর সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।