নুসরাত হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ১০ আসামি খালাস

ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে বড় পরিবর্তন এনেছেন হাইকোর্ট। ১৬ জনের মধ্যে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

অন্যদিকে নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ মামলায় খালাস পেয়েছেন ১০ জন। তাঁরা হলেন কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আবদুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আবদুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে।

গত ২৮ জুলাই হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। ২০ আগস্ট শুনানি শেষ হওয়ার পর ২৪ আগস্ট রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। সোমবার সকাল থেকে শুনানি ও রায়ের কার্যক্রম শেষে দুপুরের দিকে রায় ঘোষণা সম্পন্ন হয়।

নিম্ন আদালতের রায় নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদের রায় দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

তিনি বলেন, একই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক আসামির ভূমিকা ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পৃথকভাবে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে হাইকোর্ট মনে করেছেন।

এ কারণে বিচারক মামুনুর রশিদকে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা ও সাজা দেওয়ার বিচারিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে আনার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

যেভাবে ঘটেছিল নুসরাত হত্যা

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর মামলা প্রত্যাহারের চাপের মধ্যে ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে নুসরাতকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নুসরাতের মৃত্যুর পর তাঁর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

হাইকোর্টের সর্বশেষ রায়ে এখন এ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা যাবজ্জীবনে কমানো এবং ১০ জনের খালাসের মধ্য দিয়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বদেশ রেস্তোরাঁ এন্ড পাটি সেন্টার